
মধুমন্তীর মৈত্রর কথায় , ‘আমি অভিভূত তো বটেই। আমি অবাকও। কারণ আমি কোনওদিন কোথাও স্বীকৃতি পাইনি, আমার নামও উল্লেখ করা হয়নি সংবাদপত্রে বা গণমাধ্যমে। আমি হয়ত বুঝতেই পারতাম না, মানুষ আমার কাজ নিয়ে কী ভাবে, যদি না সমাজমাধ্যম থাকত। আমি এতদিনে বুঝলাম মানুষ আমায় কোন চোখে দেখেন,কোন জায়গায় রেখেছেন। এটাই এই অনুষ্ঠান থেকে আমার এটাই প্রাপ্তি। আমার তো কেমন রহস্যময় লাগছে। এত বছর ধরে এত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছি। কিন্তু এভাবে তো কেউ আমাকে নিয়ে কথা বলেনি। গণমাধ্যমে একজন সঞ্চালিকার বিষয়ে বাড়তি কোনও আগ্রহ দেখিনি। হাজার হাজার অনুষ্ঠান করেছি। সঞ্চালিকার নামের উল্লেখ পর্যন্ত কেউ করেন না। খবরের কাগজে আমি আমার নাম কোনওদিন প্রিন্টেড অক্ষরে দেখিনি। যেসব অনুষ্ঠানের কভারেজ হয়, সেখানেও আমার সঞ্চালনা নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে দেখিনি। হয়তো এখন সমাজ মাধ্যমে সকলে এত সক্রিয় বলেই প্রতিক্রিয়া জানতে পারছি।’ সঞ্চালিকার কথায়, ‘এমন অভিজ্ঞতাও হয়েছে, একটি সংবাদপত্রে একটি অনুষ্ঠানের কভারেজে সহ সঞ্চালিকার নামের উল্লেখ করা হয়েছে। আমার নাম বাদ পড়ে গেল…তাই আমি এত প্রশংসিত হতে অভ্যস্ত নই। আজ হয়ত সমাজ মাধ্যম থাকায় এখন মানুষ কী ভাবছে বুঝতে পারছি।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে দেখে বিস্মিত বিশিষ্ট সঞ্চালিকা। তাঁর কথায় এমন যেন কেউ মনে না-করেন, আমি আগের সরকারের কাছের লোক ছিলাম না, এই সরকারের কাছের লোক ! এমন ভাবনা ভিত্তিহীন। কারণ তিনি ফোন পেয়েছেন রাজ্য সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার দফতর থেকে। এর আগেও একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেছেন তিনি। কিন্তু কখনও কথা হয়নি তাঁর সঙ্গে । মধুমন্তী মনে করছেন, হয়ত প্রধানমন্ত্রী তাঁকে নামে চেনেন না, তবে তাঁর কাজ সম্পর্কে অবগত। আর তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর পশ্চিমবঙ্গ সরকার, তাঁর কাজ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবগত বলেই এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কারণ তিনি বিভিন্ন ভাষায় সমান স্বচ্ছন্দ। তবে এই বিরাট মাপের অনুষ্ঠানের বেশিরভাগ অংশই তাঁকে একেবারে কোনও স্ক্রিপ্ট ছাড়াই সঞ্চালনা করতে হয়েছে। তবে তিনি আপ্লুত, তাঁকে ক্যামেরায় দেখা না-গেলেও, শুধু গলা শুনে তাঁকে মানুষ চিনে নিয়েছেন।
আগের সরকারের প্রতি তাঁর কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগের কথা না বললেও, তিনি জানালেন গত ২০১১ সাল থেকে তিনি আর রাজ্য সরকারের ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সঞ্চালনা করার ডাক পান না। যদিও সে-বিষয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই। কারণ ২০১০ সালের পর থেকে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের খোলনোলচেই বদলে গিয়েছে। সেই উৎসবে জুন মাল্য সঞ্চালনা করেছেন। মধুবন্তীর মনে হয়েছে,এই অনুষ্ঠানের ধরন তাঁর কাজের ধরনের সঙ্গে মানানসই নয়। ‘ওটা আমার জন্য নয়’। কিন্তু সরকারি খরচে এত ভুরি ভুরি অনুষ্ঠান করা কি এমন ঋণন্যুব্জ রাজ্যের মানায়? প্রশ্ন তুললেন মধুবন্তী।
নতুন সরকারের শপথগ্রহণে তিনি ছিলেন। কিন্তু নতুন দলের নতুন সরকারের থেকে কী আশা তাঁর? মধুবন্তীর কথায়, চেঞ্জ ইজ দ্য অনলি কনস্ট্যান্ট। তাই এই পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। সেই সঙ্গে সুশাসন, শৃঙ্খলাবোধ সুনিশ্চিত করতে হবে। বাংলাকে আবার সারা বিশ্বের কাছে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে হবে।
(Feed Source: abplive.com)
