
বিহারের বেগুসরাইয়ের গঙ্গাতীরের বারৌনি জংশন দেশে ব্যস্ত রেলকেন্দ্র, এখানে প্ল্যাটফর্ম ২ থেকে ৯ থাকলেও ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম নেই, ঘোষণায় প্রায়ই যাত্রী বিভ্রান্ত হন
দুনিয়ায় এমন অনেক আজব ঘটনা ঘটে চলে যার কার্যকারণ উদঘাটন করার চেষ্টা আমরা খুব একটা করি না।আবার এমনও কিছু ঘটনা ঘটে যা হয়তো সবসময়ে ভেবেও দেখি না। জানার পরে মনে হয়, ঠিক তো, এটা তো কখনও ভেবে দেখিনি।
ভারতীয় রেলের এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলি আমাদের অজানা। যেমন এই দেশেই রয়েছে এমন এক ব্যস্ততম রেল জংশন। রেল জংশন হলেও নেই কোনও এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম। ২ নম্বর থেকে শুরু। এর কারণ জানলে অবাক হবেন।রেল জংশনে প্ল্যাট ফর্মের সংখ্যা অন্যান্য সাধারণ স্টেশনের থেকে অনেক বেশি হয়। ব্যস্ততাও থাকে বেশি। সেই রেল স্টোশনেও রয়েছে সবকিছুই। শুধু নেই বলতে এক নম্বর প্ল্যাট ফর্ম। অনেকের কাছেই অজানা সেই রেল স্টেশনের নাম।
বারৌনি রেল স্টেশনে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম খুঁজতে গেলে আপনি শুধু ক্লান্তই হবেন, কারণ স্টেশনে এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মের দূরত্বও ২ কিলোমিটার।
বিহারের বেগুসরাই জেলায়, গঙ্গার তীরে অবস্থিত বারৌনি গ্রামটি তার অভিনব রেল স্টেশনের জন্য বিখ্যাত। এটি দেশের অন্যতম ব্যস্ততম রেলকেন্দ্র এবং পূর্ব মধ্য রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হিসেবে কাজ করে। স্টেশনটিতে দুটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেগুলোকে আপ এবং ডাউন প্ল্যাটফর্ম বলা হয়। দুটি রেললাইনের সংযোগস্থলে স্টেশনটির অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্ল্যাটফর্মগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
বেগুসরাইয়ের গাধারা রেলওয়ে স্টেশন ১৮৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর, ১৮৮৩ সালে গাধারা স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এর তিন কিলোমিটার উত্তরে বারৌনি রেলওয়ে জংশন নির্মিত হয়। তখন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ট্রেনগুলি বারৌনি জংশনের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে আসছে।
রেলওয়ে প্যাসেঞ্জারস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সুরেন্দ্র শাহের মতে, ব্রিটিশ আমল থেকেই বারৌনি স্টেশনের ২ থেকে ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম নেই। কখনও কখনও এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামার ঘোষণাও ভুলবশত করা হয়, যা যাত্রীদের বিভ্রান্ত করে। পূর্ব মধ্য রেলওয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা বীরেন্দ্র কুমার নিশ্চিত করেছেন যে, যখন ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা করা হয়, তখন আসলে দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্মের কথাই বলা হয়।
(Feed Source: news18.com)
