নতুন ‘রাজনৈতিক দলের’ সূচনা, শুরুতেই যোগ তৃণমূলের দুই সাংসদের! এল ৫ দফার ইস্তেহারও

নতুন ‘রাজনৈতিক দলের’ সূচনা, শুরুতেই যোগ  তৃণমূলের দুই সাংসদের! এল ৫ দফার ইস্তেহারও

Cockroach Janta Party: ভারতে নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা। পাঁচ দফার ইস্তেহারও প্রকাশ করল। হাই-প্রোফাইল কারা যোগ দিলেন? ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে সংগৃহীত।

Cockroach Janta Party. ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP. নতুন রাজনৈতিক দল ভারতে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে সংগৃহীত।

নতুন ‘রাজনৈতিক’ সংগঠনের সূচনা হল ভারতে, যার নাম Cockroach Janta Party বা CJP. নিজেদের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী বলছে তারা। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এমন নামকরণ বলে জানিয়েছে। তৃণমূলের দুই ‘হাই-প্রোফাইল’ সাংসদ ওই দলে যোগ দিয়েছেন ইতিমধ্যেই।

আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটিতে পাঠরত, একসময় আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমের অংশ থাকা অভিজিৎ ডিপকে নতুন ‘রাজনৈতিক দল’ CJP-র সূচনা করেছেন। মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে সূচনা হয়েছে ‘রাজনৈতিক দল’

ইতিমধ্যেই সদস্যসংখ্যা ৭০০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের দুই সাংসদ, মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ ইতিমধ্যেই CJP-তে যোগ দিয়েছেন। CJP-র অংশ হতে চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা পোস্ট করেছিলেন মহুয়া। জানিয়েছিলেন, এমনিতেই ‘দেশদ্রোহী পার্টির সদস্যতা’ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাঁকে ‘যোদ্ধা’ তকমা দিয়ে গ্রহণ করেছে CJP.টির।

কীর্তির বার্তা ছিল, ‘আমি ককরোচ জনতা পার্টি’তে যোগ দিতে চাই। কী যোগ্যতা প্রয়োজন’? জবাবে CJP লেখে, ‘১৯৮০ সালের বিশ্বকাপ জয় করার যোগ্যতাই যথেষ্ট’।

বিতর্কের সূচনা CJI সূর্যকান্তর একটি মন্তব্যকে ঘিরে। গত সপ্তাহে একটি মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি কর্মহীন, বেকার ছেলেমেয়েদের ‘আরশোলা’, ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন বলে অভিযোগ। কোথাও কিছু করতে না পারলে বেকাররা সাংবাদিকতা, সমাজকর্মী, আইনের মতো পেশাকে আঁকড়ে ধরেন বলে মন্তব্য শোনা যায়।

CJI সূর্যকান্তর ওই মন্তব্য ঘিরে আলোড়ন শুরু হয়। বিতর্কের মুখে পড়ে তিনি জানান, তাঁর ওই মন্তব্য মৌখিক পর্যবেক্ষণ ছিল মাত্র। সেটির ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে বলেও দাবি করেন। তবে বিতর্ক থামেনি তাতেও। প্রধান বিচারপতির আসনে বসে ওই মন্তব্য করলেন কী করে, প্রশ্ন তোলেন বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকদের অনেকেই। আর তার পরই রাতারাতি CJP-র সূচনা ঘটে। CJI সূর্যকান্তের মন্তব্যের প্রতিবাদে গায়ে আরশোলার ছবি এঁটে রাস্তাঘাটেও নামেন অনেকে।

CJP-র সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে লেখা হয়েছে, তারা একটি ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, অলস দল। তরফে ইতিমধ্যেই পাঁচ দফার ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিরা অবসরের পর রাজ্যসভায় যেতে পারবেন না। আসন না বাড়িয়েই সংসদে মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে। দলবদল করা বিধায়ক-সাংসদরা অন্তত ২০ বছর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। CBSE-তে নম্বর পুনর্মূল্যায়নে ইচ্ছে মতো টাকা নেওয়া যাবে না। NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

CJP জানিয়েছে, শীঘ্রই Gen-Zদের নিয়ে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের দল দলে আহ্বান জানানো হয়েছে। দলে যোগ দেওয়ার শর্তাবলী হল, বেকার, অলস হতে হবে। নিয়মিত অনলাইন উপস্থিতি জরুরি। পেশাদারের মতো অভিযোগ-অনুযোগ জানাতে জানতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, দেশে ২১০০-র বেশি রাজনৈতিক দল আছে। জাতীয় দল ৬টি, আঞ্চলিক দল ৬০টি। নথিভুক্ত অথচ স্বীকৃতি নেই, এমন দলের সংখ্যা ২০৪৯।

CJP রাজনৈতিক দল হিসেবে নাম নথিভুক্ত করায় কি না, তাদের আবেদন স্বীকৃতি পায় কি না, না কি শুধুমাত্র ডিজিটাল বিপ্লবের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখে তারা, তা সময়ই বলবে। তবে যুবসমাজের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া পেতে শুরু করেছে CJP.

(Feed Source: abplive.com)