&nbs
Famous Bengal Doctor: বিধানচন্দ্র রায়ের প্রিয় ছাত্র ডাঃ সুকুমার চন্দ্র, যিনি বিশু ডাক্তার নামেই পরিচিত, আজও বাংলার মানুষের কাছে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। গ্রামের মাটিতে শিকড় গেঁথে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি।
চিকিৎসক সুকুমার চন্দ্র
বীরভূম, সৌভিক রায়: ছোটবেলা থেকে অনেক ছেলেমেয়েদের স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হওয়ার। সেক্ষেত্রে অনেকে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দিনরাত এক করে দেন আবার অনেকে হাজার চেষ্টা করেও পূরণ করতে পারেন না সেই স্বপ্ন। তবে স্বপ্ন পূরণের পর গ্রামের জীবন ছেড়ে শহরতলীর আলো ঝলমলে চিকিৎসার জগতে পা রাখতে চান নবীন চিকিৎসকেরা। কিন্তু বীরভূম জেলার লাভপুরের বৃদ্ধ চিকিৎসকের কাহিনি একেবারে আলাদা। তাই এখনও তিনি প্রত্যেকদিন নিয়ম করে বাড়ির বারান্দায় বিভিন্ন ধরনের ওষুধ নিয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন।
এবার হয়তো আপনারা ভাবছেন কে সেই মহান ব্যক্তি? তিনি সুকুমার চন্দ্র। সবাই ‘বিশু ডাক্তার’ নামে চেনেন। বয়স ৯৮ ছুঁইছুঁই, শরীর নুইয়ে এসেছে ঠিকই, তবে সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর কর্তব্যবোধ আজও অটুট। বিশু বাবুর জীবনের মোড় মোড় ঘুরে গিয়েছিল ৬৮ বছর আগে। কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা একটা উচ্চারণ। ‘বিশু, বাইরে যাস না, গ্রামে ফিরে চিকিৎসা কর’ এই অনুরোধেই জীবনের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বিলাসবহুল চাকরি ছেড়েদেন তিনি।
গ্রামের মাটিতে শিকড় গেঁথে ফেলেছিলেন বিধানচন্দ্র রায়ের প্রিয় ছাত্র সুকুমার ওরফে বিশু ডাক্তার। বিশু বাবুর একমাত্র ছেলে চলে গিয়েছেন ২ নভেম্বর ২০২৩ সালে। কিন্তু রোগী দেখা বন্ধ করেননি সুকুমার চন্দ্র। এমনকি ছেলের শেষকাজের দিনও চিকিৎসা করেছেন। বয়স ৯৮ বছর, তার উপর সন্তানশোক। কিন্তু মানুষের সেবার কাজ কি কিছুর জন্য থেমে থাকতে পারে? অন্যদের কাছে নিজেদের কাজ থেমে থাকলেও, বিশু বাবু সন্তানের মৃত্যুর পরেও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ থামিয়ে রাখেননি।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৩ সালে এমবিবিএস পাশ করেন সুকুমার বাবু। এরপর ডিজিও ডিগ্রি নিয়ে একাধিক সরকারি চাকরির সুযোগ এলেও, তিনি শেষমেশ বেছে নেন তাঁর গ্রাম, লাভপুরকে। ডাক্তারি পাশের পরে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের গোপালপুরে মোটা বেতনের চাকরি পেয়েছিলেন বিশু বাবু, তবে তিনি করেননি সেই চাকরি, থেকে গেছেন নিজের গ্রামে। সর্ব প্রথম এক টাকা ফি-তে শুরু হয় বিশু ডাক্তারের গ্রামীণ চিকিৎসাযাত্রা। সেই ফি এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০-২০ টাকায়। অনেক সময় রোগীর পকেট ফাঁকা থাকলে, তাও লাগে না।