Success Story: চেন্নাইয়ের দর্জির মেয়ে আয়েশা থানসিম উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫০০-র মধ্যে ৪৯৭ নম্বর পেয়ে শহরের টপার হয়েছেন। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁর এই সাফল্য এখন রাজ্যজুড়ে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে, লক্ষ্য এখন NEET পাস করে ডাক্তার হওয়া।
দর্জির মেয়ে আয়েশা এখন শহরের টপার
চেন্নাইঃ চেন্নাইয়ের বাসিন্দা আয়েশা থানসিম কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের জোরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি ৫০০-র মধ্যে ৪৯৭ নম্বর পেয়ে শহরের টপার হয়েছেন এবং সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সমগ্র তামিলনাড়ুতে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু শহর নয়, গোটা রাজ্যেই প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সরকারি মুসলিম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের এই কৃতী ছাত্রী ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। তাঁর প্রিয় বিষয় জীববিজ্ঞান এবং স্বপ্ন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, রিভ্যালুয়েশনে আবেদন করলে তিনি ৫০০-র মধ্যে ৫০০ নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা তাঁকে রাজ্যের টপার করে তুলতে পারে।
আয়েশার এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে এক সংগ্রামী পারিবারিক কাহিনি। তাঁর বাবা একজন দর্জি, যাঁর মাসিক আয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সেই সামান্য আয়ের বড় অংশই সংসারের খরচ ও বাড়ি ভাড়ায় চলে যায়। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মেয়ের পড়াশোনায় কোনও ঘাটতি রাখেননি তাঁর পরিবার। বর্তমানে আয়েশার NEET কোচিং ও উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগে রয়েছে পরিবার।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আয়েশা বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রী। বিভিন্ন স্কলারশিপের মাধ্যমে তিনি পড়াশোনায় কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। তিনি ন্যাশনাল মেন্স-কাম-মেরিট স্কলারশিপ এবং তামিলনাড়ু সরকারের ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার আওতায় বৃত্তি পাচ্ছেন।
শিক্ষকদের মতে, আয়েশার এই সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে যে, দারিদ্র্য বা সীমাবদ্ধতা কখনও স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না। দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যে কেউ সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাতে পারে। আয়েশার লক্ষ্য এখন NEET পরীক্ষায় সফল হয়ে ডাক্তার হওয়া এবং মানুষের সেবা করা।
(Feed Source: news18.com)