
সিএনএন-নিউজ১৮- কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “রাশিয়ার তেলের বিষয়টি কখনওই বিশেষভাবে ভারতকে কেন্দ্র করে ছিল না। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ ছিল এটি, এবং ঘটনাচক্রে ভারত ছিল রাশিয়ার তেলের এক প্রধান ক্রেতা।”
ছাড়মূল্যে বিপুল পরিমাণে রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর আমেরিকা ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কজনিত টানাপড়েনের পরিস্থিতিতেই এল এই মন্তব্য। ট্রাম্পের মতে, এই তেল ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে। প্রসঙ্গত ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার তেলের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতা ভারত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে তার নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছে।
২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার তেলের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতা ভারত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে তার নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। উভয় দেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো চূড়ান্ত করার পর সম্পর্কের উন্নতি ঘটে, যার ফলে শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে সমস্ত পারস্পরিক শুল্ক বাতিল হয়ে গেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসে।
এছাড়াও, রুবিও সিএনএন-নিউজ18- কে বলেন যে, আমেরিকা ভারতের শক্তির উৎস বৈচিত্র্যময় করার একটি সুযোগ দেখছে, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মতো অন্যান্য দেশও অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, “আমরা এ ব্যাপারে একটি শক্তিশালী অংশীদার হতে চাই এবং আমি মনে করি না এটি কোনও সমস্যা। ভারত ইতিমধ্যেই বৈচিত্র্যকরণের দিকে এগোচ্ছে এবং আশা করা যায় ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসান ঘটবে,”।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে, যা বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দামে নাটকীয় বৃদ্ধি ঘটিয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল কেনার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারতকে অব্যাহতি দিয়েছিল। এই ছাড়ের ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলো ইতিমধ্যে বোঝাই করা রুশ কার্গো পেতে সক্ষম হয়েছিল।
“আমি মনে করি ভারত ও আমেরিকা পুরোপুরি একমত। এবং আমরা আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি, যিনিও এ ব্যাপারে খুবই জোরালো ছিলেন। স্পষ্টতই, আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করা সহজ নয়। তবে একথাও ঠিক যে, আমরা ইরানকে সব ধরনের সুযোগ দেব,” তিনি আরও বলেন।
প্রসঙ্গত শনিবার চার দিনের ভারত সফরে এসেছেন রুবিয়ো। সুইডেনে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে সোজা আসেন কলকাতায়। সেখানে একাধিক কর্মসূচি সেরে দুপুরেই দিল্লি উড়ে যান মার্কিন বিদেশসচিব। তাঁর এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।
(Feed Source: news18.com)
