
এদিকে, এই মামলার তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোপাল পুলিশের কাছ থেকে হাতে নিয়েছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। সুপ্রিম কোর্ট গত ১২ মে ৩৩ বছর বয়সি ত্বিশার মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার একদিন পরই CBI নতুন করে FIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
ত্বিশা শর্মার শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। শ্বশুরবাড়ির দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে, ত্বিশার পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত খুন। তাঁরা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক অত্যাচার, গার্হস্থ্য হিংসা এবং খুনের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও সমর্থ সিং এবং তাঁর পরিবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, ত্বিশার আচরণ ‘অস্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছিল এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগ নেই।
প্রায় ১০ দিন পলাতক থাকার পর জবলপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় সমর্থ সিংকে। বর্তমানে তিনি কাটারা হিলস থানায় সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সমর্থের একাধিক বক্তব্য তাঁর মা তথা প্রাক্তন জেলা বিচারক গিরিবালা সিংয়ের আগের বয়ানের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। গিরিবালা সিংয়ের নামও FIR-এ রয়েছে।
কী দাবি সমর্থের?
জেরার মুখে সমর্থ জানিয়েছেন, বিয়ের প্রথম কয়েক মাস তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ১৭ এপ্রিল ত্বিশা জানতে পারেন যে তিনি গর্ভবতী। তারপর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে দাবি সমর্থের। তাঁর কথায়, ত্বিশা প্রায়ই গ্ল্যামার জগতের আগের জীবন নিয়ে কথা বলতেন এবং গৃহবধূর দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অসুবিধার কথা জানাতেন। সংসারজীবনে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না বলেও নাকি বারবার উল্লেখ করতেন ত্বিশা। এই বিষয়গুলি থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে বলে দাবি সমর্থের।
এছাড়াও এপ্রিল মাসের একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন সমর্থ, যেটিকে তিনি সম্পর্কের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে বর্ণনা করেছেন। সমর্থের দাবি, তাঁরা একসঙ্গে বেঙ্গালুরু যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরে ত্বিশা বেঙ্গালুরু যেতে অস্বীকার করে রাজস্থানের আজমেরে ভাইয়ের কাছে যাওয়ার কথা জানান। সমর্থ একাই বেঙ্গালুরু যান এবং ত্বিশা আজমেরে যান। পরে তিনি জানতে পারেন, ত্বিশা মাত্র একদিন আজমেরে থেকে কাউকে কিছু না জানিয়েই দিল্লি চলে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তাঁদের মধ্যে নতুন করে বিবাদ শুরু হয় বলে দাবি সমর্থের। তদন্তকারীরা এখন সমর্থের বয়ান, আর্থিক লেনদেন এবং ত্বিশার মৃত্যুর আগে-পরে ঘটনার টাইমলাইন খতিয়ে দেখছেন।
(Feed Source: abplive.com)
