Anik Dutta Autopsy Report: মাথার খুলি ২ টুকরো! পাঁজর ভাঙা, ফুসফুসে জমাট রক্ত; ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এল অনীক দত্তের মৃত্যুর আসল কারণ

Anik Dutta Autopsy Report: মাথার খুলি ২ টুকরো! পাঁজর ভাঙা, ফুসফুসে জমাট রক্ত; ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এল অনীক দত্তের মৃত্যুর আসল কারণ

Anik Dutta Death: মাথার খুলি ও পাঁজর ভাঙা, ফুসফুসে রক্ত জমাট! সামনে এল পরিচালক অনীক দত্তর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। রিপোর্ট অনুযায়ী, অনেক উপর থেকে পড়ার কারণেই এই মারাত্মক আঘাত। অনীক দত্তর মতো একজন গুণী পরিচালকের ময়নাতদন্তের এই প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত হয়েছে। ময়নাতদন্তের এই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণগুলি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

অয়ন শর্মা: পরিচালক অনীক দত্তর আকস্মিক প্রয়াণের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি টলিউড তথা তাঁর অগুনতি অনুরাগী। এরই মধ্যে সামনে এল তাঁর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। আর সেই রিপোর্টে যে সমস্ত চাঞ্চল্যকর ও মারাত্মক আঘাতের তথ্য উঠে এসেছে, তা সত্যিই ভয়ংকর। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অত্যন্ত উপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার ফলেই এই ধরনের মারাত্মক জখম ও পরিণতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, পরিচালকের মৃত্যু অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং মারাত্মক শারীরিক আঘাতের কারণে হয়েছে। রিপোর্টের বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর মাথা এবং ঘাড়ে অত্যন্ত গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। শুধু বাহ্যিক ক্ষত নয়, শরীরের ভেতরেও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনীকের শরীরে অভ্যন্তরীণ প্রচুর রক্তক্ষরণ (Internal Hemorrhage) হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁর মস্তিষ্কেও রক্তক্ষরণ (Brain Hemorrhage) হয়েছিল, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই তাঁর শরীর দ্রুত অবসন্ন হয়ে পড়ে বলে রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং আশঙ্কাজনক দিকটি হলো শরীরের বাঁদিকের তীব্র আঘাতের চিহ্ন। অনীকবাবুর মাথার বাঁদিকে অত্যন্ত গুরুতর আঘাত লেগেছিল। আঘাতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তাঁর বাঁদিকের স্কাল বা মাথার খুলির হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, সাধারণত অনেক উপর থেকে নিচে পড়ে গেলে বা এই ধরনের কোনো তীব্র অভিঘাত (Impact) হলেই মাথার খুলির হাড় এভাবে ভেঙে যাওয়া সম্ভব।

কেবল মাথাতেই নয়, উপর থেকে পড়ার যে তত্ত্ব উঠে আসছে, তার সপক্ষে শরীরের বাকি অংশের আঘাতগুলিও বড় প্রমাণ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিচালকের বাম দিকের পাঁজর ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। তাঁর বাম দিকের পায়েও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। একই সঙ্গে, বাম দিকের কোমর ভেঙে একেবারে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আঘাতের ধরন দেখে চিকিৎসকদের অনুমান, শরীরের বাঁদিকের ওপর ভর করেই তিনি মাটিতে বা কোনো শক্ত তলে আছড়ে পড়েছিলেন।

শরীরের এই হাড় ভাঙার পাশাপাশি অনীকবাবুর শরীরের বাঁদিকের মুখমণ্ডল, পিঠ এবং কোমরে ‘এব্রেশনস’ বা তীব্র ঘর্ষণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। কোনো খসখসে বা শক্ত তলের সঙ্গে তীব্র গতিতে ঘষা লাগলে চামড়ার যে দশা হয়, ঠিক তেমনটাই হয়েছে তাঁর ক্ষেত্রে। এর পাশাপাশি, বুক ও ফুসফুসের আঘাতও ছিল প্রাণঘাতী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর ফুসফুসে বিপুল পরিমাণ রক্ত জমাট বেঁধেছিল, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘হেমোথোরাক্স’ বলা হয়। বুকের পাঁজর ভেঙে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সেখানে রক্ত জমা হওয়ার ফলেই শ্বাসকষ্ট চরম আকার ধারণ করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

অনীক দত্তর মতো একজন গুণী পরিচালকের ময়নাতদন্তের এই প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত হয়েছে। ময়নাতদন্তের এই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণগুলি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এটি কোনো দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

(Feed Source: zeenews.com)