
Science And Technology
oi-Sanjay Ghoshal
রোবট মাছ তৈরি করেছেন দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের সিচুয়ান ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। এই রোবট মাছ অক্লেশে গিলে খেতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এর ফলে বিশ্বকে বিরাট দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে পারে এই রোবট ফিশ। রোবট ফিস মহাসাগরকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে বলে ধারণা সমুদ্র-বিজ্ঞানীদের।

রোবট মাছ হল এক ধরনের বায়োনিক রোবট, যা একটি জীবন্ত মাছের আকৃতি এবং গতিসম্পন্ন। রিপোর্ট অনুসারে, ইতমধ্যে ৪০টি ভিন্ন ধরনের মাছ ৩০টি ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে। এই রোবটগুলি উল্টানো অবস্থায় থাকবে এবং জলে ভেসে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্ত এবার রোবট মাছের এই ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ হল।
চিনা বিজ্ঞানীরা রোবট মাছের একটি নতুন ধারণা নিয়ে এসেছেন। তারা এমন মাছ তৈরি করেছেন, যা আসল মাছের মতো। এই রোবটের আকার ১.৩ সেন্টিমিটার অর্থাৎ ০.৫ ইঞ্চি। এই রোবটিক মাছের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তা যদি জলাশয়ে রাখা হয়, তবে লতা মাইক্রো প্লাস্টিক খেয়ে নিতে পারে।
রোবট ফিশের মাইক্রোপ্লাস্টিক খাওয়ার এই বৈশিষ্ট্য দূষিত মহাসাগর বা অন্যান্য জলাশয়গুলি পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে। চিনা বিজ্ঞানীদের দল ইতিমধ্যেই মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে মুক্তি পেতে রোবট মাছের দক্ষতা পরীক্ষা করছে। অগভীর জলে রেখে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, রোবটিক মাছগুলি মাইক্রোপ্লাস্টিক চুষে খেয়ে ফেলছে।
এই গবেষক দলের প্রধান লক্ষ হল গভীর জলে মাইক্রোপ্লাস্টিক সংগ্রহ করতে রোবট তৈরি করা। সেইসঙ্গে সামুদ্রিক দূষণ বিশ্লেষণ করার জন্য ওই রোবটকে সক্ষম করে তোলাও গবেষকদের উদ্দেশ্য। গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ওয়াং ইউয়ান বলেন, আমরা এই ধরনের একটি হালকা ওজনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রোবট তৈরি করেছি। এই রোবট মাছকে অনেক উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
রোবট মাছগুলির আরও একটি আশ্চর্যজনক বৈশিষ্ট্যগুলি হল, তারা প্রতি সেকেন্ডে ২.৭৬ শারীরিক দৈর্যেজন সাঁতার কাটতে পারে। বেশিরভাগ কৃত্রিম নরম রোবটের থেকে দ্রুত। এই মাছগুলি দূষণকারী মাইক্রো প্লাস্টিক শোষণ করে নিতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা নিজেদের পুনরুদ্ধারে সক্ষম। এই রোবট মাছগুলি বাইরে থেকে বিজ্ঞানীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
এমনকী ওই রোবট মাছগুলি অন্য বড় মাছ বা জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে পারে। এই রোবটিক মাছের একটি পাখনা রয়েছে। সে পাখনার সাহায্যে নড়াচড়া করতে পারে। অন্যান্য মাছের সুরক্ষায় কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। যদি দুর্ঘটনাক্রমে অন্য মাছ খেয়ে ফলে তবে তার ক্ষতি হয় না।
