Europe Deadly Heatwave: অগ্নিকুণ্ড ইউরোপ এখন মৃত্যুকূপ, ফুটন্ত ফ্রান্স কাড়ল ৭ প্রাণ, ৯৫ ডিগ্রিতে পুড়ছে লন্ডনও! অরেঞ্জ অ্যালার্টে আরও ভয়ংকর আপডেট

Europe Deadly Heatwave: অগ্নিকুণ্ড ইউরোপ এখন মৃত্যুকূপ, ফুটন্ত ফ্রান্স কাড়ল ৭ প্রাণ, ৯৫ ডিগ্রিতে পুড়ছে লন্ডনও! অরেঞ্জ অ্যালার্টে আরও ভয়ংকর আপডেট

 

Europe Deadly Heatwave: স্বপ্নের মতো ইউরোপ আজ নরকে পরিণত হয়েছে। ফ্রান্স কেড়েছে সাত জনের প্রাণ। ৯৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পুড়ছে লন্ডনও। এল বুকে কাঁপুনি ধরানো মারণ অরেঞ্জ অ্যালার্ট!

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইউরোপ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, রোমের কলোসিয়াম, বা লন্ডনের বিগ বেন। সুইত্‍জারল্যান্ডের সবুজ উপত্যকা, নরওয়ের ফিয়র্ড বা উত্তর আকাশে অরোরা বোরিয়ালিসের অপরূপ মায়াবী খেলা। ইতালির রেনেসাঁ শিল্পের ছোঁয়া থেকে ভেনিসের গন্ডোলা! কিংবা আলবেনিয়ার কোনও রাস্তার ধারের ক্যাফেতে ক্যাপুচিনোয় চমক। মূলত শীতপ্রধান মহাদেশে বিরাজমান মনোরম আবহাওয়ায়। সাধে কী আর ইউরোপে প্রতি বছর ৭০ থেকে ৭৫ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটক আসেন।

এই ইউরোপই এখন অগ্নিকুণ্ড! হয়ে উঠেছে মৃত্যুকূপ!পুড়ছে তীব্র তাপপ্রবাহে। অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে বর্তমানে সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি। শুধু ফ্রান্সেই বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে! যাদের পাঁচজনেরই মৃত্যু জলে ডুবে! কারণ তাঁরা হ্রদ ও উপকূলীয় এলাকায় গিয়ে গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। অন্যদিকে বাকি দু’জনের মৃত্যুর কারণ সরাসরি হিটস্ট্রোক। খোলা মাঠে আয়োজিত স্পোর্টস ইভেন্টই তাঁদের জীবন কেড়েছে। গত ২৬ মে মঙ্গলবার, ব্রিটেনে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো শতাব্দী প্রাচীন তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

‘ইউকে’স হটেস্ট মে ডে’

লন্ডনের কোনও কোনও অংশে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিউ গার্ডেন্সে সাময়িক ভাবে ৩৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। যা একই স্থানে গত সোমবারের রেকর্ড-উচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (প্রায় ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে গিয়েছে। ওয়েলসেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মে মাসের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। কার্ডিফের বিউট পার্কে সাময়িক তাপমাত্রা ৩২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। যা ফ্লিন্টশায়ারের হাওয়ার্ডেন বিমানবন্দরে সোমবার রেকর্ড করা ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে অতিক্রম করেছে।

ইউরোপের উপর তৈরি হয়েছে ‘হিট ডোম’

বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমানে ইউরোপের উপর একটি ‘হিট ডোম’ (তাপের গম্বুজ) তৈরি হয়েছে। যা মূলত একটি উচ্চচাপ ব্যবস্থা, যা অনেকটা হাঁড়ির ঢাকনার মতো কাজ করে; যা গরম বাতাসকে উপরের দিকে উঠতে বাধা দেয় এবং সেটিকে মাটির কাছাকাছি আটকে রাখে। আর ঠিক এই কারণেই তাপমাত্রা এত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতি বেশ কয়েক দিন কিংবা এমনকী কয়েক সপ্তাহ ধরেও বজায় থাকতে পারে। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই প্রাকৃতিক ঘটনার প্রভাব ক্রমশ আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

হার্ট অ্যাটাকে প্যারিসে দৌড়বিদের মৃত্যু

ফ্রান্সের জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মড ব্রেজন নিশ্চিত করেছেন যে, দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের একাধিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে হ্রদ, নদী কিংবা উপকূলীয় জলরাশিতে ডুবে যাওয়ার ফলে। এছাড়া প্যারিসে একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে ৫৩ বছর বয়সী এক দৌড়বিদের মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপে রেকর্ড-ভাঙা ও অকাল তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। এই তাপপ্রবাহের জেরে রাজধানী প্যারিসের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এছাড়া আলাদা আরেকটি ঘটনায়, লিওঁ শহরে এক মহিলাও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

বাতিল বেশ কিছু স্পোর্টস ইভেন্ট

ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানিয়েছেন যে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বেশ কিছু স্পোর্টস ইভেন্ট বাতিল করতে হয়েছে। গত সোমবার ফ্রান্সের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, মে মাসের ইতিহাসে দেশের উষ্ণতম দিনের রেকর্ড হয়েছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী এই তাপপ্রবাহ পুরো সপ্তাহ জুড়েই অব্যাহত থাকতে পারে। প্যারিস ও ব্রিটেন-সহ দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলের জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি হয়েছে। মঙ্গলবার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।

(Feed Source: zeenews.com)