
Chunnari Chunnari Dispute: পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান এবং টিপস মিউজিকের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকার মামলা করলেন প্রযোজক বাসু ভাগনানি। শর্ত না মানলে আরও ১০০ কোটির জরিমানা! বরুণ ধাওয়ানের আগামী ছবি ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ কি তবে বড়সড় বিপাকে?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বলিউডে এখন সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেভিড ধাওয়ানের আগামী ছবি। ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’-কে ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা। ৯০-এর দশকের ব্লকবাস্টার ছবি ‘বিউই নম্বর ওয়ান’ (Biwi No. 1)-এর সুপারহিট গান ‘চুনরি চুনরি’ এবং ‘ইশক সোনা হ্যায়’-এর ব্যবহার নিয়ে প্রযোজক বাসু ভাগনানি এবং টিপস ইন্ডাস্ট্রিজের মধ্যে বিবাদ এখন চরমে। জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। শুধু নীতিগত লড়াই নয়, এই আইনি যুদ্ধ এখন রূপ নিয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার এক ধুন্ধুমার আইনি লড়াইয়ে।
সমস্যার শুরু ডেভিড ধাওয়ানের নতুন ছবির ট্রেলার ও গান মুক্তির পর থেকে। এই ছবিতে অভিনয় করছেন তাঁর ছেলে বরুণ ধাওয়ান, সঙ্গে আছেন পূজা হেগড়ে ও ম্রুণাল ঠাকুর। ছবিতে ‘বিউই নম্বর ওয়ান’-এর আইকনিক গান ‘চুনরি চুনরি’ এবং ছবির নাম হিসেবে ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ লাইনটি ব্যবহার করা হয়েছে।
‘বিবি নম্বর ওয়ান’ ছবির মূল প্রযোজক, পূজা ফিল্মসের কর্ণধার বাসু ভাগনানি অভিযোগ তুলেছেন যে, এই গান ও টাইটেল ব্যবহারের আগে তাঁর কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। ভাগনানির দাবি, এটা কোনো সাধারণ আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং তাঁর লড়াই ‘নীতিগত’। তাঁর কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু নৈতিকতা থাকা উচিত। ডেভিড ধাওয়ান অন্তত আমাকে একটা ফোন করে বলতে পারতেন যে তিনি তাঁর ছেলের ছবির জন্য এই গানটি ব্যবহার করছেন। আমি নিজেই এনওসি (NOC) দিয়ে দিতাম।”
বিবাদের জেরে গত ২১ মে ছবির ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়। যদিও নির্মাতারা একে ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু বাসু ভাগনানির আইনজীবী ভি কে দুবে এই দাবি উড়িয়ে দেন। তাঁর মতে, আদালত ইতিমধ্যেই স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, যার কারণেই ট্রেলার লঞ্চ স্থগিত করতে বাধ্য হন নির্মাতারা।
এখানেই শেষ নয়, পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান এবং টিপসের কর্ণধার রমেশ তৌরানি ও কুমার তৌরানির বিরুদ্ধে জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ, এবং কপিরাইট লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে বিহারের মাধেপুরার একটি আদালতে ফৌজদারি মামলাও রুজু করা হয়েছে।
এদিকে গত ২৩ মে মুম্বাইতে ধুমধাম করে ছবির ট্রেলার লঞ্চ করা হয়। সেখানে প্রযোজক রমেশ তৌরানি জানান, সমস্ত সমস্যা মিটে গেছে এবং ছবি বা ট্রেলার মুক্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে টিপস ইন্ডাস্ট্রিজ দাবি করে যে, তারা এই গানগুলির আসল এবং আইনি স্বত্বাধিকারী। এমনকি গত ২২ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট থেকেও তারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বা নির্দেশিকা পেয়েছে।
তবে ভাগনানির আইনজীবী পাল্টা দাবি করেছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ তাঁদের কোনো নোটিশ না দিয়েই, একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে। তাই তাঁরা এই নির্দেশ বাতিলের জন্য পুনরায় আবেদন করতে চলেছেন।
আইনি লড়াই আরও তীব্র করে তুলে বাসু ভাগনানি বোম্বে হাইকোর্টে একটি নতুন মামলা দায়ের করেছেন। ছবিতে ‘চুনরি চুনরি’ এবং ‘ইশক সোনা হ্যায়’ গান দুটির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ছবির নাম পরিবর্তন করা এবং সমস্ত প্রচারমূলক উপাদান থেকে এই গানগুলি সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পূজা এন্টারটেইনমেন্টের মূল দাবিগুলি নিচে দেওয়া হলো, কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য টিপস এবং ডেভিড ধাওয়ানের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকার মামলা। যদি গান দুটি ছবি থেকে বাদ না দেওয়া হয় এবং ছবির বাণিজ্যিক ব্যবহার চলতেই থাকে, তবে আরও ১০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। ভাগনানির আইনজীবীর বক্তব্য, ১৯৯৯ সালে টিপস-কে কেবল ‘অডিও রাইটস’ বা গানের অডিও স্বত্ব দেওয়া হয়েছিল, ভিডিও বা ভিজ্যুয়াল রাইটস নয়। ২০১৮ সালে টিপস ভিজ্যুয়াল রাইটসের জন্য ইমেল করলেও সেই চুক্তি কখনোই চূড়ান্ত হয়নি।
বরুণ ধাওয়ান, মৃণাল ঠাকুর, পূজা হেগড়ে, চাঙ্কি পাণ্ডে, জিম্মি শেরগিল ও মৌনি রায়ের মতো তারকাখচিত এই ছবিটি একটি রোমান্টিক ট্রায়াঙ্গেল এবং কমেডি ঘরানার ছবি। কিন্তু মুক্তির আগেই ৪০০+১০০ অর্থাৎ ৫০০ কোটি টাকার এই আইনি খাঁড়া ছবির ভবিষ্যৎকে বেশ খানিকটা অনিশ্চিত করে তুলেছে। এখন দেখার, আদালতের রায় শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যায়।
(Feed Source: zeenews.com)
