History of Indian Politicians Attacked: চড়-থাপ্পড় থেকে জুতো বৃষ্টি, জনরোষে অভিষেক: তবে এই প্রথম নয়, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার আক্রান্ত হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব

History of Indian Politicians Attacked: চড়-থাপ্পড় থেকে জুতো বৃষ্টি, জনরোষে অভিষেক: তবে এই প্রথম নয়, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার আক্রান্ত হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব

 

From Sharad Pawar to Arvind Kejriwal to Abhishek Banerjee Attack: সম্প্রতি সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া নজিরবিহীন হামলার ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ভারতীয় রাজনীতির এক অন্ধকার দিক। অতীতে শরদ পওয়ার থেকে শুরু করে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো হেভিওয়েট নেতারাও কীভাবে আমজনতার প্রত্যক্ষ ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন? কেন বারবার রাজনেতাদের দিকে ধেয়ে আসে জুতো বা ডিম?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় ‘জনতাই জনার্দন’। কিন্তু মাঝেমধ্যে নীতি নির্ধারণে খামতি, দুর্নীতির অভিযোগ, স্থানীয় ক্ষোভ কিংবা অতি-মেরুকরণের নির্বাচনী প্রচারের পারদ যখন চড়ে, তখন সেই সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই উগরে পড়ে রাজনেতাদের ওপর। শনিবার সোনারপুরে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন হামলার ঘটনা নতুন কোনো বিষয় নয়। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে, অতীতে বহুবার দেশের প্রথম সারির ভিভিআইপি (VVIP) রাজনেতারা আমজনতার প্রত্যক্ষ ক্ষোভ, চড়-থাপ্পড় কিংবা জুতো বৃষ্টির মতো চরম অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু: আচার্য কৃপালনী থেকে মাধবরাও সিন্ধিয়া
জনসাধারণের রাজনেতাদের ওপর চড়াও হওয়ার ইতিহাস কিন্তু নতুন নয়। স্বাধীনতার পরপরই ১৯৫০-এর দশকে প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি জীবত্রাম কৃপালনী (আচার্য কৃপালনী) উত্তর ভারতে এক জনসভায় তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। দেশভাগের পর পুনর্বাসন সংক্রান্ত নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক কর্মী ও উদ্বাস্তুরা তাঁকে ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্থা করে বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। এরপর ১৯৯০-এর দশকে মধ্যপ্রদেশে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা মাধবরাও সিন্ধিয়ার কনভয় আটকে দেয় একদল উত্তেজিত জনতা। তাঁর নিরাপত্তা বলয় ভেঙে গাড়ি ভাঙচুর এবং তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

ক্যামেরার সামনেই চড়: শরদ পওয়ার ও হার্দিক প্যাটেল
২০১১ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP) প্রধান তথা তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শরদ পওয়ার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সময় অরবিন্দর সিং নামে এক যুবক পাহারাদারদের চোখ এড়িয়ে সরাসরি তাঁর গালে থাপ্পড় কষিয়ে দেয়। মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতির প্রতিবাদেই সে এই কাজ করেছে বলে চেঁচাতে থাকে। একইভাবে, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে গুজরাটের পতিদার আন্দোলনের নেতা হার্দিক প্যাটেল সুরেন্দ্রনাথনগরে একটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখার সময় এক স্থানীয় ব্যক্তি মঞ্চে উঠে সরাসরি তাঁকে চড় মারেন।

বারবার আক্রান্ত কেজরিওয়াল ও হুডা
আম আদমি পার্টির (AAP) প্রতিষ্ঠাতা তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে বেশিবার এই ধরণের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে একাধিকবার রোড-শো করার সময় কখনও অটোচালক তাঁকে চড় মেরেছেন, কখনও আবার জনসভায় তাঁর গায়ে কালি বা ইঞ্জিনের তেল ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের মে মাসে হরিয়ানার রোহতকে একটি রোড-শো চলাকালীন হুডখোলা গাড়িতে থাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডাকেও এক যুবক আচমকা চড় মারে। একই ধরণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে পাঞ্জাবের সুখবীর সিং বাদলকেও। ২০১৭ এবং ২০২১ সালের কৃষক আন্দোলনের সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে পাথর বৃষ্টি করেছিল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

‘জুতো নিক্ষেপ’ বা প্রতীকী অপমান
সরাসরি গায়ে হাত তোলার পাশাপাশি ভারতীয় রাজনীতিতে ‘জুতো ছোঁড়া’ বা পাদুকা নিক্ষেপ এক ধরণের প্রতীকী ও চরম অবমাননাকর প্রতিবাদ হিসেবে বারবার সামনে এসেছে।

২০০৯ (পি চিদম্বরম): দাঙ্গা তদন্তের রিপোর্টে অসন্তুষ্ট হয়ে লাইভ প্রেস কনফারেন্স চলাকালীন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে জুতো ছুঁড়ে মারেন এক সাংবাদিক।
২০০৯ (মনমোহন সিং): আহমেদাবাদের এক নির্বাচনী জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়ে এক ছাত্র।
২০১৬ (রাহুল গান্ধী): উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে কৃষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় রাহুল গান্ধীর রোড-শো-তে জুতো ছোঁড়া হয়।
২০২০ (ভূপেন্দ্রসিংহ চূড়াসামা): শিক্ষা নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ আমজনতার ক্ষোভের মুখে পড়ে জুতো হামলার শিকার হন গুজরাটের এই মন্ত্রী।

কী বলছেন বিশ্লেষকরা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের অনভিপ্রেত ঘটনাগুলি কোনো সুপরিকল্পিত অপরাধ নয়, বরং এটি হলো স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ । যখন সাধারণ মানুষ অনুভব করেন যে গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এক আকাশ-পাতাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তখনই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দলই এই ধরণের হিংসাত্মক ঘটনাকে গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে তীব্র নিন্দা করলেও, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনাগুলি জনমানসের তীব্র অসন্তোষের এক জ্বলন্ত প্রতিফলন।

(Feed Source: zeenews.com)