India Oman trade deal: সোমবার থেকে কার্যকর হচ্ছে ভারত-ওমান বাণিজ্য চুক্তি, কী কী সুবিধা পাবে দুই দেশ

India Oman trade deal: সোমবার থেকে কার্যকর হচ্ছে ভারত-ওমান বাণিজ্য চুক্তি, কী কী সুবিধা পাবে দুই দেশ

 

সোমবার দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি কার্যকরের ঘোষণা করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে এটি হবে পঞ্চম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), যার আগে মরিশাস, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (EFTA)-র সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হয়েছে।

ওমানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা

চুক্তি অনুযায়ী, ওমানের মোট শুল্ক কাঠামোর ৯৮.০৮ শতাংশ এবং বাণিজ্য মূল্যের ৯৯.৩৮ শতাংশের ক্ষেত্রে ভারতীয় পণ্য ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বর্তমানে যেসব ভারতীয় পণ্যের উপর ওমানে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়, প্রায় ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সেই পণ্যগুলি চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই শুল্কমুক্ত হবে।

কোন কোন খাত লাভবান হবে?

এই চুক্তির ফলে বস্ত্রশিল্প, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী, রাসায়নিক পণ্য, ওষুধশিল্প, পরিবহণ সরঞ্জাম, প্লাস্টিক, সামুদ্রিক পণ্য, রত্ন ও গয়না এবং যন্ত্রপাতি নির্মাণ শিল্পের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় রপ্তানিকারকরা সহজতর বাজার প্রবেশাধিকার ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্য সুবিধা পাবেন।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বৃদ্ধি

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ও ওমানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে ১১.১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের ১০.৬১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ছিল ৪.০২ বিলিয়ন ডলার এবং ওমান থেকে আমদানি হয়েছে ৭.১৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

পরিষেবা ক্ষেত্রেও দুই দেশের বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালে ওমানে ভারতের পরিষেবা রপ্তানি যেখানে ছিল ৩৯৭ মিলিয়ন ডলার, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৬৬৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

সংরক্ষিত থাকবে একাধিক স্পর্শকাতর খাত

তবে দেশের কৃষক ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় ভারত বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর খাতকে শুল্ক ছাড়ের আওতার বাইরে রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্য তেল, তৈলবীজ, ফল, শাকসবজি, শস্য, মশলা, চা, কফি, রাবার, চামড়াজাত পণ্য, জুতো এবং কিছু পেট্রোলিয়াম পণ্য।

শুধু বাণিজ্য নয়, বিনিয়োগেও জোর

এই CEPA শুধুমাত্র একটি সাধারণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নয়। এতে পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব অধিকার, শুল্ক সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরকারি মহলের আশা, এই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে এবং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে।

(Feed Source: news18.com)