Riteish Deshmukh: এবার রাজনীতিতে পা! ‘বন্ধু’ বিজয় থালাপতির পথেই রিতেশ দেশমুখ? সাফ জবাব অভিনেতার

Riteish Deshmukh: এবার রাজনীতিতে পা! ‘বন্ধু’ বিজয় থালাপতির পথেই রিতেশ দেশমুখ? সাফ জবাব অভিনেতার

Is Riteish Deshmukh joining politics like Vijay Thalapathy: দক্ষিণী তারকা বিজয় থালাপতির মতো এবার কি রাজনীতিতে এন্ট্রি নিচ্ছেন রিতেশ দেশমুখ? জি ২৪ তাসের মঞ্চে এই প্রশ্ন উঠতেই সটান জবাব দিলেন অভিনেতা। পরিবারতন্ত্রের খোঁচা এড়াতে এবং নিজের কেরিয়ার নিয়ে ঠিক কী বললেন প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রুপোলি পর্দা থেকে রাজনীতির অলিন্দে পা রাখা ভারতে নতুন কিছু নয়। তার সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ তামিলনাড়ুতে বিজয় থালাপতির (Vijay Thalapathy) রাজনৈতিক উত্থান ও সাফল্য। দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বিজয়। এই আবহে মহারাষ্ট্রের বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল— বাবা বিলাসরাও দেশমুখের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে তথা অভিনেতা-পরিচালক রীতেশ দেশমুখও (Riteish Deshmukh) কি এবার সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখবেন?

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘জি ২৪ তাস’ (Zee 24 Taas)-এর “মহারাষ্ট্র গৌরব পুরস্কার”। এই জমকালো অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র শিল্পে অবদানের জন্য রিতেশ দেশমুখকে একটি বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার গ্রহণের পর মঞ্চে মুখোমুখি আলাপচারিতায় বসেন চ্যানেলের প্রধান সম্পাদক কমলেশ সুতার এবং রিতেশ দেশমুখ। সেখানেই রিতেশকে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত রসিক অথচ বিচক্ষণতার সাথে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটান।

আলাপচারিতায় দক্ষিণ ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা উঠে আসে। তিনি রিতেশকে প্রশ্ন করেন, “তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অভিনেতা বিজয় থালাপতির এন্ট্রি এবং তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বা রাজনৈতিক সাফল্যের পর মহারাষ্ট্রে আপনাকে নিয়ে গুঞ্জন চলছে। আপনার কি রাজনীতিতে আসার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে?”

এই প্রশ্নের উত্তরে রিতেশ নিজের চেনা হাসিমুখ ধরে রেখে অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত জবাব দেন। তিনি বলেন, “বিজয় থালাপতির নিজের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রয়েছে। ঠিক তেমনই, আমার নিজের জনপ্রিয়তা ঠিক কতটুকু, সেই বিষয়ে আমারও স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তাই আমি কোনোভাবেই রাজনীতিতে আসব না।” অভিনেতার এই স্বতঃস্ফূর্ত ও মজাদার উত্তর শোনার সাথে সাথেই পুরো অডিটোরিয়ামে হাসির রোল ওঠে। নিজের সীমাবদ্ধতা এবং কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সবার মন জয় করে নেয়।

রাজনীতিতে না আসার পেছনে রিতেশ শুধু নিজের জনপ্রিয়তার যুক্তিই দেননি, বরং মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার দিকটিও তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে জানান, “আজ যদি আমি রাজনীতিতে আসি, তবে আগামীকাল আপনারাই প্রশ্ন তুলবেন যে একটা পরিবার থেকে আর কতজন রাজনীতিতে আসবে? দেশমুখ পরিবার শুধু পরিবারতন্ত্রকে গুরুত্ব দিচ্ছে— এমন অপবাদ দেওয়া হবে। আমি সেই সুযোগ দিতে চাই না।”

রিতেশ দেশমুখের রাজনীতিতে না আসার সিদ্ধান্তটি বুঝতে গেলে তাঁদের পারিবারিক পটভূমি জানা অত্যন্ত জরুরি। রিতেশের বাবা প্রয়াত বিলাসরাও দেশমুখ ছিলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। বাবার সেই উত্তরাধিকার বহন করে রিতেশের দুই ভাই ইতিমধ্যেই রাজনীতিতে অত্যন্ত সফল ও সক্রিয়। রিতেশের বড় ভাই অমিত দেশমুখ লাতুর শহর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস দলের বিধায়ক। তিনি মহারাষ্ট্র সরকারের চিকিৎসা শিক্ষা সাংস্কৃতিক মন্ত্রকের প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। রিতেশের ছোট ভাই ধীরাজ দেশমুখ লাতুর গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং তিনি মাঠে-ঘাটে কাজ করে নিজের জমি শক্ত করেছেন।

পারিবারিক এই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেও রিতেশ নিজেকে পুরোপুরি অভিনয়ের জগতে ধরে রেখেছেন। সম্প্রতি তাঁর পরিচালিত ও অভিনীত ‘বেদ’ (Ved) চলচ্চিত্রের রেকর্ড ভাঙা সাফল্যের পর পরিচালক হিসেবেও তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের আলাদা স্থান তৈরি করেছেন। রিতেশ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর দুই ভাই যখন রাজনীতি সামলাচ্ছেন, তখন তিনি রুপোলি পর্দার মাধ্যমেই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চান।

রিতেশ দেশমুখের স্পষ্ট কথা, সেলিব্রিটি হলেই সবাই ক্ষমতার অলিন্দে ছুটতে চান না। নিজের কাজকে ভালোবাসা এবং সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে পরিবারের সম্মান রক্ষা করার এই সিদ্ধান্ত রিতেশের পরিপক্ক রাজনৈতিক চেতনারই পরিচয় দেয়। রাজনীতিতে না এলেও সিনেমার পর্দায় তিনি তাঁর দর্শকদের ভরপুর বিনোদন জুগিয়ে যাবেন, এটাই তাঁর ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর।

(Feed Source: zeenews.com)