প্রসবের সময় এক আশা (ASHA) কর্মী এবং তাঁর সদ্যোজাতের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশে। এই ঘটনা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
প্রতীকী ছবি
উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলায় প্রসবের সময় এক আশা (ASHA) কর্মী এবং তাঁর সদ্যোজাত সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, মৃতার নাম পুনম দেবী (৩৫)। প্রসব বেদনা শুরু হলে তাঁকে হারদোইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকেরা তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে স্বাভাবিক প্রসবই হবে এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল।
তবে প্রসবের সময় হঠাৎ জটিলতা দেখা দেয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুনম দেবী এবং তাঁর নবজাতক— দু’জনেরই মৃত্যু হয়। এরপরই পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন।
পরিজনদের অভিযোগ, স্বাস্থ্যের অবনতি হলেও চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি। তাঁদের দাবি, সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হলে মা ও শিশুর প্রাণ বাঁচানো যেত। ঘটনার পর মৃতার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে সামিল হন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানান।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে মৃত্যুর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দফতরও ঘটনার পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র, প্রসবকালীন চিকিৎসা পদ্ধতি এবং নির্ধারিত চিকিৎসা প্রোটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, পুনম দেবী একজন আশা কর্মী ছিলেন। দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আশা কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সাধারণ মানুষকে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করেন।
এই ঘটনার পর ছোট শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে মাতৃস্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চিকিৎসার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্ত ও স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
(Feed Source: news18.com)