)
Suryakumar Yadav Likely To Be Sacked: সূর্যকুমার যাদব নেতৃত্বের সঙ্গেই হারালেন দলে জায়গা। এমনটাই রিপোর্ট এখন একাধিক সর্বভারতীয় মিডিয়ার। নতুন নেতার খোঁজে টিম ইন্ডিয়া।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জল্পনাই সত্যি হতে চলেছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই ভারতীয় ক্রিকেটের (Team India News) অন্দরমহলে কান পাতলে একটা কথাই শোনা যাচ্ছিল। আর অবশেষে সেটাই হতে চলেছে। নেতৃত্বের সঙ্গেই দলে জায়গা হারাচ্ছেন দেশের টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানোর তিন মাসের মধ্যেই সবকিছু খোয়াচ্ছেন দেশের ৩৬০ ডিগ্রি ক্রিকেটার। এমনটাই রিপোর্ট দেশের একাধিক মিডিয়ার। সূর্যকুমারকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে বলেই অনেকে লেখালিখি করেছে। কিন্তু যতক্ষণ না বিসিসিআই আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সূর্যহীন ভারতীয় ক্রিকেটে সিলমোহর দেওয়া যায় না। বয়স এবং ক্রমশ নিম্নমুখী পারফরম্যান্স গ্রাফই সূর্যর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড টি-২০আই সফরের দল ঘোষণার ঠিক কয়েক দিন আগেই সূর্যকে নিয়ে এল বিরাট আপডেট। আগামীর কথা ভেবেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বর্তমানে একজন নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের খোঁজ করছে। মূল লক্ষ্যই হচ্ছে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্ট বিশ্বকাপ ও লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্স। সূর্যকে সরিয়ে দেওয়া ভবিষ্যতের জন্য একটি দল গড়ে তোলার দিকেই পদক্ষেপ।
কী জানা যাচ্ছে বিসিসিআইয়ের তরফে
টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচক কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করেই বিসিসিআই নতুন সাইকেলের জন্য নতুন অধিনায়ক নিয়োগ করবে। এক সর্বভারতীয় মিডিয়া বিসিসিআইয়ের এক শীর্ষ কর্তাকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘নির্বাচন কমিটি, বিসিসিআই এবং টিম ম্যানেজমেন্ট কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন ভারতের উচিত একজন নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া। সূর্যর নেতৃত্বে দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলেও, তার বর্তমান ফর্ম এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাঁরা মনে করেছেন যে, এখনই পরিবর্তনের সময়। সূর্যকে আর দল নির্বাচনের জন্য বিবেচনায় রাখা হবে না এবং এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি শীঘ্রই সূর্যকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ সাম্প্রতিক সময়ে সূর্যর ফর্ম একেবারেই প্রত্যাশামাফিক ছিল না। আর বিষয়টি বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। সব মিলিয়ে সূর্য ১১৩টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং ৩৬.৩৫ গড়ে ও ১৬২.৯৪ স্ট্রাইক রেটে মোট ৩২৭২ রান সংগ্রহ করেছেন। তবে অতি সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর পরিসংখ্যানের অবনতি ঘটেছে। গত ১ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সূর্য ৩৫ ম্যাচে মাত্র ২৬-এর গড়ে ৭০২ রান করেছেন। অন্যদিকে ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত সূর্য ১৮টি টি-টোয়েন্টিআই ম্যাচে ২৬.৮১- গড়ে ৪২৯ রান করেছিলেন।
অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমারের পারফরম্যান্স
সূর্যর নেতৃত্বে ভারত ২০২৫ সালে এশিয়া কাপ এবং ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এবং ২০২৩ সালের এশিয়া কাপজয়ী দলের অংশও ছিলেন। সূর্যকে একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যাটার হিসেবেই গণ্য করা হত। সূর্য সাধারণত তিন ও চার নম্বর পজিশনে ব্যাট করে থাকেন। প্রথাগত শটের বাইরে গিয়ে অভিনব সব শট খেলার জন্য তাঁর বিশ্বজোড়া পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। এক সময়ে ছিলেন বিশ্বের এক নম্বর টি-২০ ব্যাটার। দলের চরম সংকটের মুহূর্তেও তিনি বাকিদের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে রানের চাকা ঘোরাতে পারততেন। তবে সেই সময়টা ছিল অক্টোবর ২০২৪ সালের আগের কথা। ১২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি অর্ধ-শতক হাঁকানোর পর তাঁর পরবর্তী ৫০-এর বেশি রানের ইনিংস আসে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেই একই সিরিজে তিনি আরও দুটি অর্ধ-শতক করেছিলেন। আর এটি ছিল ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের শেষ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজ এবং যাদবের এই দুর্দান্ত ফর্ম দলের মনে আশার সঞ্চার করেছিল। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমেরিকার বিরুদ্ধে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস দিয়ে যাদব অভিযান শুরু করেছিলেন। কিন্তু এরপর ভারত বিশ্বকাপ জিতলেও তিনি আর সেই একই মানের পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি।
কে হবেন ভারতের পরবর্তী অধিনায়ক?
পরের অধিনায়ক হওয়ার ত্রিমুখী দৌড়ে এগিয়ে আছেন শ্রেয়স আইয়ার। এই মুহূর্তে তিনি ওডিআই দলে শুভমন গিলের ডেপুটি। মুম্বইয়ের ক্রিকেটার শ্রেয়স বিগত প্রায় আড়াই বছর টি-২০ আই খেলেননি ঠিকই, তবে গতকয়েক বছর আইপিএলে পঞ্জাব কিংসের হয়ে ধারাবাহিক পারফর্ম করছেন দলের নেতা। আইপিএলে শ্রেয়স প্রথমবার অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান দিল্লি ডেয়ারডেভিলসে (বর্তমানে দিল্লি ক্যাপিটালস)। গৌতম গম্ভীরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই দল ২০২০ সালে আইপিএল ফাইনালে উঠেছিল। তবে হারতে হয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে। ২০২৪ সালে আইয়ারের নেতৃত্বেই কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের তৃতীয় শিরোপা জেতে। যা ছিল ১০ বছর পর তাদের প্রথম ট্রফি। তবে সেই সাফল্যের পরেও কেকেআর তাঁকে ছেড়ে দেয়। এরপর পঞ্জাবে নতুন ভাবে শুরু করার সুযোগ পান আইয়ার। ২০২৫ আইপিএলে তিনি ১৭ ম্যাচে ৬০৪ রান করেন এবং দলকে ফাইনালে তোলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে হারতে হয়েছিল। ২০২৬ আইপিএলে ১৪ ম্যাচে ৪৯৮ রান করেছিলেন। আইপিএলে আইয়ারের অভিজ্ঞতা এবং রান নিঃসন্দেহে তাঁকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে ঠিকই। তবে অধিনায়কত্বের দৌড়ে তিলক ভার্মা এবং ঈশান কিষানও ন ‘ডার্ক হর্স’ বা অপ্রত্যাশিত চমক। আইয়ার যদি শেষমেশ অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন, তবে ক্রিকেটেরসংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে ভারতের হয়ে তাঁর ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিলক কিংবা ঈশানের মধ্যে কেউ একজন। বিসিসিআই-কে শীঘ্রই এশিয়ান গেমসের জন্যও দল ঘোষণা করতে হবে। ২০২২ সালের সোনাজয়ী ভারত এবারও তাদের পূর্ণশক্তির দল পাঠাবে…
(Feed Source: zeenews.com)
