অতিমারী, যুদ্ধ আর ২৪x৭ নজরদারি: কীভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদির চ্যালেঞ্জ নেহরুর থেকে আলাদা ছিল

অতিমারী, যুদ্ধ আর ২৪x৭ নজরদারি: কীভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদির চ্যালেঞ্জ নেহরুর থেকে আলাদা ছিল

 

নেহরু সেসময়ে সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী ঔপনিবেশিক শাসনের পর। প্রধানমন্ত্রী মোদি, অন্যদিকে এমন একটি ভারতকে শাসন করেছেন, যা আরও বড়, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত, আরও রাজনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীর প্রতি আরও বেশি উন্মুক্ত। তাই তুলনাটা বেশি হচ্ছে না কে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন বরং কীভাবে সঙ্কটের ধরন দশকের পর দশক ধরে বদলেছে, সেটা নিয়েই চলছে তুলনা।

কোভিডের যুগে লিডারশিপ:

প্রধানমন্ত্রী মোদির সময়ে অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিশ্বজুড়ে ঘন ঘন এবং জটিল সমস্যা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল কোভিড-১৯ অতিমারিতে, যা শত বছরে একবার ঘটে এমন একটি সমস্যা এবং একসঙ্গে পাবলিক হেলথ আর লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। ভারতে হেলথকেয়ারের চাহিদা, অর্থনীতির উন্নতি, ওয়েলফেয়ার ডেলিভারি, আর ভ্যাকসিনেশন ম্যানেজ করাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

একটা অনিশ্চিত গ্লোবাল পরিবেশ:

আন্তর্জাতিক ল্যান্ডস্কেপ নেহরুর সময় থেকে অনেক বদলে গিয়েছে। নেহরু শাসন করেছিলেন ‘কোল্ড ওয়ার’-এর শুরুর দশকে, যখন দুনিয়া মূলত দু’টো বড় পাওয়ার ব্লকের চারপাশে গড়ে উঠেছিল। আজকের জিওপলিটিকাল পরিবেশ অনেক বেশি বিভক্ত আর পরিবর্তনশীল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ, মার্কিন-ইরান সংঘর্ষের মতো বড় এনার্জি মার্কেট, খাদ্য সুরক্ষা, ট্রেড রুট আর গ্লোবাল ডিপ্লোম্যাসিতে ঢেউ তুলেছে।

ভারতের জন্য, এই ঘটনাগুলো ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ব্যালান্স করতে বাধ্য করেছে, যেখানে গ্লোবাল পাওয়ারগুলো প্রতিযোগিতা করছে, আর ইকোনমিক গ্রোথ আর স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি সুরক্ষিত রাখতে হচ্ছে।

Non-Alignment থেকে Multi-Alignment:

বিদেশি পলিসির চ্যালেঞ্জগুলো আন্তর্জাতিক সিস্টেমের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে। নেহরু ছিলেন Non-Aligned Movement-এর প্রধান স্থপতিদের একজন, যেটা ভারতের কোল্ড ওয়ার-এর প্রতিদ্বন্দ্বিতার থেকে স্বাধীনতা বজায় রাখতে চেয়েছিল। তার বিপরীতে, কনটেম্পোরারি ডিপ্লোম্যাসি এমন এক দুনিয়ায় কাজ করে, যেখানে দেশগুলো একসঙ্গে একাধিক পাওয়ার সেন্টারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির অধীনে ভারত আমেরিকা, ইউরোপ, রাশিয়া, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি আর গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে এনগেজমেন্ট বাড়িয়েছে, আর স্ট্র্যাটেজিক ফ্লেক্সিবিলিটি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। উদ্দেশ্য ছিল একটা মাল্টিপোলার দুনিয়া নেভিগেট করা, যেখানে ইকোনমিক, টেকনোলজিক্যাল আর সিকিউরিটি ইন্টারেস্টগুলো ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

নিরবচ্ছিন্ন জবাবদিহিতার যুগ:

দুই যুগের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য সম্ভবত তথ্য পরিবেশে।

নেহরু শাসন করেছিলেন এমন এক সময়ে যখন যোগাযোগ প্রধানত সংবাদপত্র, রেডিও এবং সীমিত টেলিভিশন কভারেজের মাধ্যমে হতো। প্রধানমন্ত্রী মোদি কাজ করছেন এমন এক ২৪-ঘণ্টার সংবাদ চক্রে, যেখানে তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমত দ্রুত বদলে যেতে পারে।

আজকের নাগরিকরা সরকারের কাছ থেকে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই নয়, ডিজিটাল পরিষেবা, পরিকাঠামো, কল্যাণমূলক কর্মসূচি, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবও আশা করেন। এই প্রত্যাশাগুলো শাসন ব্যবস্থার পরিধি এমনভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, যা গণতন্ত্রের প্রথম দিকের দশকগুলোতে কল্পনাও করা কঠিন ছিল।

(Feed Source: news18.com)