)
Delhi hotel fire Gurugram family 8 member killed: তদন্তে উঠে এসেছে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে। হোটেলে ছিল না কোনও ‘ফায়ার এনওসি’। সেইসঙ্গে হোটেলে ঠাসা ছিল সিলিন্ডার। ফলে আগুন লাগার মুহূর্তের মধ্যে সিলিন্ডার ফেটে পুরো হোটেল আগুনের গ্রাসের চলে যায়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ বাবা শেষের দিন গুনছেন। তাঁকে দেখতেই ছুটে এসেছিলেন ছেলে। কিন্তু অদৃষ্টের লিখন! নিয়তি কেড়ে নিল সপরিবারে ছেলেকেই! হাসপাতালে ভর্তি বাবা রাধেশ্যাম আগরওয়ালকে দেখতে হরিয়ানা থেকে সপরিবার দিল্লিতে এসেছিলেন পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিবেক আগরওয়াল। বিবেকের সঙ্গেই এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী তর্জনী, দুই কন্যা জিভিশা, ভারিয়া এবং সঙ্গে আরও ৪ আত্মীয়। দিল্লির মালব্য নগরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গেই পুড়ে শেষ বিবেকরা ৮ জন।
২ থেকে ৩ দিনের জন্যই দিল্লিতে এসেছিলেন বিবেক আগরওয়ালরা। হাসপাতালে যেতে যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, তার জন্য হাসপাতালের কাছাকাছি-ই একটি হোটেল বুক করেছিলেন তাঁরা। দুটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। অভিশপ্ত বুধবারের সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সকলেই হাসপাতালে যাওয়ার জন্য রেডি হন। এরপর হাসপাতালে যাওয়ার আগে তাঁরা কয়েকজন হোটেলের রেস্তরাঁয় ব্রেকফাস্ট করতে যান। সেখানে যখন তাঁরা ব্রেকফাস্ট করছেন, তখনই হোটেলে আগুন লাগে। কয়েকজন আত্মীয় আবার সেইসময় হোটেলের ঘরেই ছিলেন। আগুন লাগার পর তাঁরা হোটেলের ঘরের ভিতরই আটকে পড়েন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় সবার।
বেক আগরওয়ালদের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, চিকিৎসক জানিয়েছিলেন যে রাধেশ্যাম আগরওয়াল আর বেশি দিন বাঁচবেন না। তাই রাধেশ্যাম আগরওয়ালের সঙ্গে সময় কাটাতেই পুরো পরিবার গুরগাঁও থেকে দিল্লিতে আসেন। কিন্তু ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিল সবাইকেই। বিবেক আগরওয়ালকে যখন উদ্ধার করা হয়, তখন তাঁকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা হলেও আর বাঁচানো যায়নি। ওদিকে হোটেলের ঘরে ঝলসে মারা যান বিবেকের স্ত্রী তর্জনী। গয়না দেখে তাঁকে শনাক্ত করা হয়। বিবেকের বড় মেয়ে বেঙ্গালুরুতে পড়াশোনা করতেন। দাদুকে দেখবেন বলে তিনিও পরিবারের সবার সঙ্গে দিল্লি আসেন। দুই মেয়েরই মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিবেকের মামা-মামীও।
দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২১ জন। মৃতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি। ভারতীয় ৯ জন। তদন্তে উঠে এসেছে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে। হোটেলে ছিল না কোনও ‘ফায়ার এনওসি’। সেইসঙ্গে হোটেলে ঠাসা ছিল সিলিন্ডার। ফলে আগুন লাগার মুহূর্তের মধ্যে সিলিন্ডার ফেটে পুরো হোটেল আগুনের গ্রাসের চলে যায়। পাঁচ তলা ওই হোটেলটিতে যাতায়াতের জন্য ছিল মাত্র একটিই এন্ট্রি ও এক্সটি পয়েন্ট। সেই মূল গেটটি সেন্সর চালিত হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই জ্যাম হয়ে যায়। কোনও ‘ফায়ার এক্সিট’ও ছিল না। এমনকি হোটেলের ঘরের জানলাগুলিও ছিল কাচের, সিল করা। ফলে আগুন লাগার পর যেমন বিষাক্ত ধোঁয়া বাইরে বেরোতে পারেনি। তেমনই ঘরের ভিতরের মানুষও জানলা ভেঙে প্রাণে বাঁচার সুযোগ পাননি।
(Feed Source: zeenews.com)
