)
Kolkata Doctors Save 32 Year Old Stroke Patient: জটিল হৃদরোগে হাসপাতালেই হয়ে গেল ভয়াল স্ট্রোক! বাকরুদ্ধ তরুণী সম্পূর্ণ নিথর হল শরীরের একদিক! ‘মৃত্যুঘণ্টা’ বাজার ৩০ মিনিটেই মিরাকল করলেন কলকাতার চিকিত্সকরা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নদিয়ার মুড়াগাছার ৩২ বছর বয়সী তরুণীর ঘটনা। হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হঠাৎ করে তাঁর কথা বলার ক্ষমতা এবং শরীরের ডানদিকের নড়াচড়ার শক্তি সম্পূর্ণ ভাবে চলে যায়। হয়ে যায় মারাত্মক স্ট্রোক! এরপর শুরু হয় সময়ের বিরুদ্ধে তাঁর এক কঠিন লড়াই। দ্রুত চিকিৎসা উন্নত প্রযুক্তি এবং বহুবিভাগীয় সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হন কলকাতার অভিজ্ঞ চিকিত্সকরা। ডাক্তার অল্লান মণ্ডল (এইচওডি ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট নিউরোলজি, এবং ডাক্তার নির্মাল্য রায়ের (কনসালট্যান্ট নিউরোরেডিওলজি) নেতৃত্বাধীন মেডিক্যাল টিম দ্রুত হস্তক্ষেপ করে শুধু রোগীর প্রাণ বাঁচানোই সম্ভব হয়নি পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিবন্ধকতার সম্ভাবনাও রোধ করা গিয়েছে।
নদিয়ার বাসিন্দা ২০২৩ সালে মাইট্রাল ভালভ রিপ্লেসমেন্ট (এমভিআর) করিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি মেথিসিলিন সেনসিটিভ স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস (এমএসএসএ) দ্বারা সৃষ্ট ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা হৃদযন্ত্রের অভ্যন্তরীণ আবরণ ও ভালভকে প্রভাবিত করা এক গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ তাঁর শরীরের ডানদিক সম্পূর্ণ অবশ হয়ে যায় এবং তিনি গ্লোবাল অ্যাফেসিয়ায় আক্রান্ত হন! যার ফলে তাঁর কথা বলা, ভাষা বোঝা ও যোগাযোগ করার ক্ষমতা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জরুরি স্ট্রোক প্রোটোকল চালু করেন। স্নায়বিক মূল্যায়নে তাঁর এনআইএইচএসএস স্কোর ছিল ১৪, যা মাঝারি থেকে গুরুতর স্ট্রোকের ইঙ্গিত দেয়। জরুরি স্ক্যানে দেখা যায়, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনীগুলির একটি বাম ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারি (আইসিএ) সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে ব্যাপক মস্তিষ্কের ক্ষতিই হত না, স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা এমনকী মৃত্যুও ঘটতে পারত। রোগীর সংকটজনক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ডাক্তার নির্মাল্য রায়ের নেতৃত্বে অবিলম্বে মেকানিক্যাল থ্রম্বেক্টমি করা হয়। এই অত্যাধুনিক ও ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে ধমনীতে জমে থাকা রক্তের জমাট অপসারণ করে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সফল ভাবে সম্পন্ন হয় এবং টিআইসিআই ৩ অর্থাৎ আক্রান্ত অংশে সম্পূর্ণ রক্তপ্রবাহ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। এই দ্রুত হস্তক্ষেপ রোগীর মস্তিষ্ককে স্থায়ী ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয়। তাঁর এনআইএইচএসএ স্কোর ১৪ থেকে নেমে সঙ্গে সঙ্গেই ২-এ পৌঁছায় এবং পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা শূন্যে নেমে আসে, যা সম্পূর্ণ স্নায়বিক সুস্থতার প্রমাণ।
এই জটিল কেসের সম্পর্কে ডাক্তার অল্লান মণ্ডল বলেন, ‘রোগীর আগে থেকেই ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর ভালভ রিপ্লেসমেন্টের ইতিহাসও ছিল। যা স্ট্রোক ও হৃদ্রোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বড় রক্তনালীর স্ট্রোক সামলাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন বিভাগের নিবিড় সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রতিটি মিনিট মূল্যবান। কারণ সামান্য দেরিতেও অসংখ্য মস্তিষ্ক কোষ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্রুত উপসর্গ শনাক্তকরণ, জরুরি স্ক্যান এবং তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের ফলেই আমরা সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে পেরেছি। আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন ধরা পড়ে, যা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের একটি অবস্থা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ওষুধের মাধ্যমে এই সমস্যার চিকিৎসা করা হয় এবং পরে তাঁকে অ্যান্টিকোয়াগুলেশন থেরাপি দেওয়া হয়। পুরো সময় জুড়ে নিউরোলজি, জেনারেল মেডিসিন এবং কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকরা তাঁর ওপর নিবিড় নজর রাখেন।’ ডাক্তার নির্মাল্য রায় বলেন, ‘বড় রক্তনালীর বাধাজনিত অ্যাকিউট ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল থ্রম্বেক্টমি বর্তমানে অন্যতম কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। এই রোগীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী এক গুরুত্বপূর্ণ ধমনী বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ রিক্যানালাইজেশন করতে পারা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁর সম্পূর্ণ সুস্থতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ছয় সপ্তাহের ইঞ্জেকশন অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি এবং বহুবিভাগীয় সমন্বিত চিকিৎসার পর রোগীকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। তাঁর শরীরে কোনও স্নায়বিক জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা অবশিষ্ট নেই। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত উপসর্গ শনাক্তকরণ, সময়মতো হস্তক্ষেপ এবং সমন্বিত চিকিৎসা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রোক চিকিৎসার ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত বাণী ‘Time is Brain’ এর বাস্তব উদাহরণ হয়ে রইল এই সাফল্যের কাহিনি।
রোগীর পরিবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে মণিপাল হাসপাতালের (ইএম বাইপাস) টিমকে।
(Feed Source: zeenews.com)
