)
TMC MPs against Abhishek Banerjee: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতা নয়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নেতা করা হোক – এমন প্রস্তাব সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠাতে পারেন তৃণমূল সাংসদরা।
রাজীব চক্রবর্তী: তৃণমূলের ‘অভিষেক বয়কট’ এবার আরও চড়া সুরে। এবার লোকসভা দলনেতার পদ থেকেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোর দাবি! দলের অন্দরেই! সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতা নয়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নেতা করা হোক – এমন প্রস্তাব সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠাতে পারেন তৃণমূল সাংসদরা।
জানা গিয়েছে, দিল্লিতে বিজেপি নেতাদের সংস্পর্শে বেশ কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে চিঠি জমা দেবেন তাঁরা। বিশেষ নিরাপত্তা চাইতে পারেন তাঁরা। এই তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, পার্থ ভৌমিক, জগদীশ বাসুনিয়া, জুন মালিয়া, মিতালী বাগ, বাপি হালদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
একই সঙ্গে চিঠি দেওয়া হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দলনেতা নয়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নেতা করা হোক – এমন প্রস্তাব সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠাতে পারেন তৃণমূল সাংসদরা। সূত্রের খবর, দলত্যাগ বিরোধী আইন বাঁচিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিতে পারেন তৃণমূলের ১৮ থেকে ২০ জন সাংসদ। আগামী ৮ তারিখ চিঠি দেওয়া হতে পারে। তার আগে ৭ তারিখ সন্ধ্যায় দিল্লিতে বৈঠক করতে পারেন তৃণমূল সাংসদরা।
প্রসঙ্গত, জানা যাচ্ছে, শুধু যে বিধায়করাই বিবাগী হয়েছেন এমনটা নয়, বড় একটা অংশের তৃণমূল সাংসদরাও দিল্লিতে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সূত্রের খবর প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। একাধিক তৃণমূল সাংসদ এখন জল মাপছেন, কোন দিকে যাবেন। কৌশলগতভাবে মমতা বন্দোপাধ্যায় সব কমিটি ভেঙে দিলেও সাংসদদের মধ্যেও বিভাজনে সংসদে আরও বেশি অ্যাডভান্টেজে বিজেপি-ই।
যদিও বিজেপি বলেছে যে, তৃণমূল নেতাদের জন্য দরজা বন্ধ। কিন্তু তৃণমূল সাংসদদের একটা বড় অংশ ৪ তারিখের পর থেকে দলীয় কোনও কর্মসূচিতে যোগ দেননি। এমনকি এলাকাতেও নেই। আর তাতেই জোরালো হচ্ছে তৃণমূলের সাংসদ দলে ভাঙনের জল্পনা। এই সাংসদরা কি সবাই ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিদ্রোহী তৃণমূলের সঙ্গে? উঠছে প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত, যদি বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, তবে বিধায়কের পাশাপাশি সমর্থিত সাংসদ সংখ্যাও তাদের জন্য জরুরি। কারণ সেক্ষেত্রে বিষয়টি আদালত ও নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়াবে। নির্বাচন কমিশন তখন দেখবে যে, কোন গোষ্ঠীর অধিক সংখ্যক বিধায়ক ও সাংসদ আছে। আর এই জল্পনার মধ্যেই সাংসদ দলেও ভাঙনের সম্ভাবনা উসকে দিয়েছে সাংসদ কাকলির বিস্ফোরক পোস্ট। যেখানে তিনি ফের দলের নীতি, আদর্শ এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে, ছেলে অসুস্থ, দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন হয়েছে। কেন দিল্লিতে? তার প্রমাণ চেয়ে দল ছবি চেয়ে পাঠাতেই ক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়া বললেন, “বেশিরভাগ সাংসদ যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমিও তাই মেনে নেব।” সিতাইয়ের বিধায়ক স্ত্রী-র শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে গিয়েই অসুস্থ হয়েছিলেন ছেলে। দলনেত্রীকে জানিয়ে দিল্লি এসেছিলেন জগদীশ।
তারপরেও দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ফোন করে ছেলের অসুস্থতার প্রমাণ চান। অপারেশন হয়েছে শুনে ছবি চেয়ে পাঠান। ডেরেককে ছবি পাঠিয়েও বেজায় ক্ষুব্ধ জগদীশ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল তাঁর বিধায়ক স্ত্রী কলকাতায় গিয়ে দেখা করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।
(Feed Source: zeenews.com)
