)
BJP Leader Annamalai: সিভিল সার্ভিস ছেড়ে দিয়ে ২০২০ সালে আন্নামালাই বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁকে করা হয় তামিলাড়় বিজেপির রাজ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে জোর ধাক্কা দিয়েছিলেন দলের প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন আইপিএস কে আন্নামালাই। দলের কাজকর্মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গে দেখা করে তাঁর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন কে আন্নমালাই। গতকাল অর্থাত্ ৫ জুন তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। তার পরেই তিনি নতুন আন্দোলন করার কথা ঘোষণা করেন। আর তার পরেই দেখে যাচ্ছে তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন তাঁর ১৪ লাখ সমর্থক।
তাঁর ইস্তফাপত্রে আন্নমালাই লিখেছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে হওয়া একাধিক কথোপকথন এবং গত ১৮ মাসে আমার প্রকাশ করা দ্বিমতগুলোর কথা স্মরণ করতে চাই। তামিলনাড়ুতে একটি উন্নয়নমুখী এবং সাংস্কৃতিকভাবে শিকড়যুক্ত রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে আমার চলমান চিন্তাভাবনা দিয়ে আমি শীর্ষ নেতৃত্বকে আর বাড়তি বোঝায় ফেলতে চাই না। আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সাথে আলোচনার পর, আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে তামিলনাড়ু নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়।
সিভিল সার্ভিস ছেড়ে দিয়ে ২০২০ সালে আন্নামালাই বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁকে করা হয় তামিলাড়় বিজেপির রাজ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট। মা্র এক বছরের মধ্যেই তাঁকে করা হয় রাজ্য সভাপতি। এখন বিজেপি ছেড়ে কী করবেন? সংবাদমাধ্যমে আন্নামালাই বলেন, আমার পরবর্তী পর্যায়ের রাজনীতিতে তরুণ ও সাধারণ মানুষই হবে প্রধান সঙ্গী।
রাজনীতিতে একজন সাধারণ মানুষের আসাটা বড় বিষয়। এমএলএ ও এমপিদের” সংস্কৃতির অবসান ঘটানোই মূল লক্ষ্য। রাজনীতিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। তরুণ প্রজন্মকে “ব্যক্তিপূজা ও বংশানুক্রমিক (পরিবারতান্ত্রিক) রাজনীতির” অবসান ঘটাতে হবে।
আন্নামালাই আরও বলেন, “ধাপে ধাপে” দল গড়ে তুলতে “ধৈর্য এবং সংযমের” প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য এখন আরও অনেক বড়। এমন এক রাজনীতির প্রয়োজন যা সত্যিই একটা আসল পরিবর্তন আনতে পারে।
আন্নামালাইয়ের লক্ষ্য ছিল অনেক দূরের। তিনি তামিলনাড়ুর প্রধান দুই দ্রাবিড় দল ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-এর বিকল্প তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন বিজেপি যেন নিজের শক্তিতে একা দাঁড়ায়। এই কারণে তিনি বিরোধী দল AIADMK-এর কড়া সমালোচনা শুরু করেন। তিনি তামিল রাজনীতির দুই প্রয়াত বড় নেতা সি এন আন্নাদুরাই এবং জে জয়ললিতার বিরুদ্ধে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যের কারণে AIADMK নেতৃত্ব খুব রেগে যায়। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আন্নামালাই ক্ষমা না চাইলে তারা বিজেপির সঙ্গে কোনও জোট রাখবে না। আন্নামালাই ক্ষমা চাননি। তাই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একলা লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, বিজেপির ভোট অনেক বেড়েছে। কিন্তু দল একটি আসনও জিততে পারেনি। কোয়েম্বাটুর আসন থেকে আন্নামালাই নিজে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ডিএমকে প্রার্থীর কাছে ১৭,৮০০-র বেশি ভোটে হেরে যান। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি আরাভাকুরিচি আসন থেকে হেরেছিলেন। এই জোড়া পরাজয়ের পর দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব চিন্তায় পড়ে যায়। তারা মনে করতে শুরু করে যে, আন্নামালাইয়ের জনপ্রিয়তা যতই থাকুক না কেন, AIADMK-র মতো বড় আঞ্চলিক দল ছাড়া তামিলনাড়ুতে জেতা সম্ভব নয়।
(Feed Source: zeenews.com)
