
টাকার মোহ থেকে অনেক দূরে ছিলেন অনীক৷ সেকথা অনেকেই হয়ত জানতেন না৷ বাবা-মায়ের ডিভোর্স হওয়ার পর জীবনে কঠিন দিন দেখেছেন ঠিকই, কিন্তু সম্পত্তির প্রতি কোনও লোভ তাঁর তৈরি হয়নি৷ প্যানিক দত্ত থেকে রগচটা, স্পষ্টবাদী অনীককে অনেকেই চিনেছেন, কিন্তু ঘরোয়া অনীকের এই চেহরা কেউই দেখেননি৷
কলকাতা: পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যু শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি সকলে৷ এতটা গুণী মানুষের এভাবে চলে যাওয়া মানতে পারছেন না অনেকে৷ অবসাদ বা ডিপ্রেশেনে কী ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে, তাই নিয়ে আলোচনা চলছে৷
পাশাপাশি উঠে আসছে অনীক দত্তের শেষ জীবনের শারীরিক সমস্যার কথাগুলোও৷ একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কথাও নিয়ে আলোচনা হচ্ছে৷ যা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বিস্তর৷
অনীক দত্তের জীবনের আরও কিছু অজানা কথাও উঠে আসছে ফেসবুকের পাতায়৷ যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আরও কিছু তথ্য জানা যাচ্ছে, জানা গিয়েছে ঘরোয়াভাবে অনীক মানুষটা কেমন ছিলেন৷ তাঁর সহকর্মীরা বলেছেন যে তিনি ছিলেন বড্ড স্পষ্টবাদী৷ এবার তাঁর খুব কাছের মানুষ প্রকাশ করলেন অনীকের আসল ভাবমূর্তি৷
বিজ্ঞাপনের কাজ দিয়ে শুরু, তারপর ছবির পরিচালনা করেছেন অনীক দত্ত৷ ভূতের ভবিষ্যৎ ছবি তৈরি পর রাতারাতি তিনি হয়ে যান সেলিব্রিটি ডিরেক্টর৷ এরপর বহু ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি৷ মোটের উপর তাঁর সব ছবিই প্রশংসা কুড়িয়েছে৷ নাম-খ্যাতি অর্জন করেছিলেন অনীক৷ কোনও দিনই অর্থের লোভ তাঁর ছিল না৷ কারণ তিনি ছিলেন বনেদি বড়লোক বাড়ির ছেলে৷ সম্পর্কে ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা নরেন্দ্রচন্দ্র দত্তের নাতি।
কলকাতার অতি সম্ভ্রান্ত ঘরে বড় হন অনীক৷ বিপুল ঐশ্বর্যের মধ্যেই বড় হন৷ পরিবারে একদিকে যেমন ছিল পয়সা, তেমনই ছিল শিক্ষা৷ সেটা অনীকের বড় হওয়ার মধ্যে দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে৷ বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি তাঁর লেখা গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ থেকে আঁকা নানা ইলাস্ট্রেশন এবং কার্টুনও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছিল অনীকের।
এই নিয়ে খুব সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন অনীক দত্তের আত্মীয় জয় রায়৷ তিনি লিখেছেন যে, অনীক দত্ত সবসময় অর্থ উপার্জনকেই গুরুত্ব দেননি৷ তাঁর মেয়ে ঐশী জানিয়েছিলেন যে একটি ছবি পরিচালনা করা হয়ে গেলে যদি প্রযোজকের কিছুটা টাকাও বেঁচে যেত, সেটা তিনি ফিরিয়ে দিতেন৷ এতটাই সৎ মানুষ ছিলেন পরিচালক অনীক দত্ত৷
তবে এর থেকেও যেটা বেশি আকর্ষণীয় সেই গল্প শোনালেন অনীকের এক মামা৷ অনীক দত্তের দাদু ছিলেন অনীর রায়, বিমল রায়ের বড় ভাই৷ বিমল রায়ের ছেলে জয় রায় লিখেছেন এই কথা৷ তিনি মুম্বইতে থাকেন এবং বম্বে ফিল্ম জগতের সঙ্গে রয়েছে তাঁর গভীর যোগ৷ একবার এক নামী প্রযোজকের সঙ্গে জয়বাবুর কথায় উঠে আসে অনীকের
প্রসঙ্গ৷ অনীককে ডেকে পাঠানো হয়৷ প্লেনে নাকি চড়তে ভয় পেতেন অনীক৷ যদিও তাঁকে বুঝিয়ে নিয়ে যান তাঁর স্ত্রী৷ এরপর সেই নামী প্রযোজকের কাছে স্ক্রিপ্ট শোনানোর পর তিনি রাজি হয়ে যান৷
এবার যখন আসে বাজেটের কথা আসে, তখনই আসে গল্পে ট্যুইস্ট! অনীক সেই সিনেমা তৈরি করতে চান ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা৷ প্রযোজক ৫ কোটি টাকা দিতে চান৷ সেই শুনেই অনীক আঁৎকে ওঠেন৷ বাড়তি ৩৫ লাখ টাকা তিনি নিতে চাননি! যা শুনে খুবই অবাক হন তাঁর আত্মীয়৷ যদিও পরবর্তীতে সেই ছবি তৈরি হয়নি, কিন্তু অনীকের এই গল্প তিনি সকলের সঙ্গে ভাগ না করে পারেননি৷(ফেসবুক পোস্টে জয় রায়ের লেখা)
যে সময় প্রযোজকদের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ ওঠে ভুরি ভুরি, সেই সময় অনীক দত্তের মতো যে পরিচালক এক বিরল উদাহরণ৷
(Feed Source: news18.com)
