)
Odisha Vigilance Raid: তদন্তের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারের ব্যাংক লকার। সেখান থেকে প্রায় ২ কোটি লিক্যুয়েড ক্যাশ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে তাঁর বাড়ি থেকে আড়াই লাখেরও বেশি নগদ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মাসে ৬ হাজার মাইনে থেকে বাড়ির লকারে ২ কোটি টাকা উদ্ধার। সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের কীর্তিতে থ পুলিস। ভুবনেশ্বরের বিশেষ ভিজিল্যান্স আদালতের থেকে ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানা নিয়ে একযোগে ৯টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। এই তল্লাশি অভিযানে পুলিস গিয়ে পৌঁছায় সরকারি ইঞ্জিনিয়ার বৈকুণ্ঠ নাথ বেহেরার বাড়ি। তিনি বালিগুড়া অঞ্চলের আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি তাঁর বেতনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি টাকার মালিক হয়েছেন। কীভাবে তা সম্ভব?
এই অভিযোগের পর, ওড়িশা রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা (যাকে ভিজিল্যান্স বলা হয়) কোর্টের অনুমতি নিয়ে তাঁর ওপর এক বিশাল অভিযান চালায়। ভুবনেশ্বর, বালাসোর, জাজপুর ও বালিগুড়া—এই ৪টি শহরের ৯টি জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিস সুপার, ডেপুটি পুলিস সুপার ও ইন্সপেক্টরদের এক মস্ত বড় টিম এই কাজে নামে।
কোথায় কোথায় তল্লাশি চলল এবং কী কী পাওয়া গেল?
অতিরিক্ত পুলিস সুপার, ডেপুটি পুলিস সুপার, ইন্সপেক্টর এবং অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়ে গড়া এক বিশাল টিম এই অভিযানে অংশ নেয়। চন্দ্রশেখরপুর, শৈলশ্রী বিহার, কানন বিহার, জাজপুর জেলার ধর্মশালা, বারিপদা, বালিগুড়ায় তাঁর সরকারি কোয়ার্টার এবং অফিসের ঘরে এই তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে ইঞ্জিনিয়ার এবং তাঁর পরিবারের নামে ৫টি বহুতল বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারেই প্রায় ১০,৫০০ স্কয়ার ফিট জায়গা জুড়ে একটি চার তলা বাড়ি আছে। এছাড়া ভুবনেশ্বর এবং জাজপুর জেলায় আরও ৪টি থাকার বাড়ি পাওয়া গিয়েছে। মোট ১৩টি জমির সন্ধান মিলেছে, যার মধ্যে ৭টি জমি রয়েছে ভুবনেশ্বরের খুব দামী ও নামী এলাকায়। বাকি জমিগুলো রয়েছে জাজপুর ও বারিপদাতে।
এই তদন্তের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে যখন তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক লকার থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়। এর আগে বাড়ি তল্লাশি করার সময় নগদ ২.৬৬ লক্ষ টাকারও বেশি টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। সোনার গয়না, ব্যাংক ব্যালেন্স, পোস্ট অফিসের সঞ্চয়, অন্যান্য বিনিয়োগ এবং আর্থিক সম্পদের সঠিক মূল্য কত, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারিগরি বিশেষজ্ঞরা এই সব বাড়ি ও জমির আসল বাজার দর হিসেব করছেন।
কে এই বৈকুণ্ঠ নাথ বেহেরা?
সরকারি খাতা-কলমের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে বৈকুণ্ঠ নাথ বেহেরা যখন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তখন তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৬,০০০ টাকার কাছাকাছি। এরপর তিনি বিভিন্ন আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কাজ করেছেন। এই বছরের শুরুর দিকেই তিনি পদোন্নতি পেয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী হন।
ভিজিল্যান্সের কর্মকর্তারা এখন খতিয়ে দেখছেন যে তাঁর এই সমস্ত সম্পত্তি তাঁর চাকুরিজীবনের বৈধ আয়ের সঙ্গে মেলে কি না। এত বিলাসবহুল বাড়ি, দামি জমি, বিপুল নগদ টাকা এবং নানা বিনিয়োগের কারণে এই তদন্তটি ওড়িশায় এই বছরের অন্যতম এক বড় দুর্নীতি বিরোধী মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তল্লাশি এবং সম্পত্তির মূল্যায়ন পুরোপুরি শেষ হলে মোট কত টাকার সম্পত্তি পাওয়া গেল, তা পরিষ্কার জানা যাবে।
(Feed Source: zeenews.com)
