সূত্রের খবর, দাঁড়ি কাটার ক্ষুর দিয়ে দিল্লির অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের হাতের শিরা কেটেছিল অভিযুক্ত বর্ধমানের দম্পতি রামপ্রসাদ ও তার স্ত্রী বনশ্রী৷
দশ বছরের ছেলের সামনেই অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুন করে দাস দম্পতি৷
নয়াদিল্লি: যতদিন যাচ্ছে তদন্তের মোড় ঘুরছে ততই। পুলিশ জানিয়েছে, বহু কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তির লোভে বর্ধমানের দম্পতি তাঁদের কিশোর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে এসে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে তাঁর বসুন্ধরা এনক্লেভের অ্যাপার্টমেন্টের ভিতরে হত্যা করেন।
তদন্তকারীরা মনে করেন, এই দম্পতি ২০২৩ সাল থেকে বর্ধমানে ১১,০০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বসবাস করছিলেন। সম্পত্তিটি কেনার জন্য বারবার তাঁর কাছে গিয়েছিলেন দম্পতি। দেবস্মিতার ভাইবোনেরা বিক্রির ব্যাপারে রাজি থাকলেও দেবস্মিতা তাঁর দাদুর রেখে যাওয়া এই উত্তরাধিকার হাতছাড়া করতে রাজি হননি।
দেবস্মিতাকে খুনের পর পূর্বা এক্সপ্রেসে ছেলেকে নিয়ে ফিরছিল দম্পতি৷ ০৩ জুন বিকেল ৫:৪০ মিনিটে পূর্ব এক্সপ্রেসে চড়ে ০৪.০৬.২০২৬ তারিখে বর্ধমানে পৌঁছায় অভিযুক্তরা। খুনের পর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ট্যাক্সি এবং একটি টিএসআর (TSR) ভাড়া করে। এরপর আনন্দ বিহার হয়ে নিউ দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে যায়৷ সেখান থেকে পূর্বা এক্সপ্রেস ধরে বর্ধমানের অভিযুক্ত দম্পতি। জানা যায়, অভিযুক্ত দম্পতি নিজেদের পঞ্চম শ্রেণীর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছিলেন৷ স্টেশন থেকেই নিহত অধ্যাপিকাকে ফোন করেন তাঁরা৷ প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে হত্যার শিউরে ওঠা বিবরণ৷
স্টেশন থেকে অধ্যাপিকাকে ফোন করে দম্পতি জানান, ‘বাড়ি ভাড়া হাতে হাতে দেব’৷ তাদের আবাসনে আসতে বলেন দেবস্মিতা৷ রামপ্রসাদের পকেটে দাড়ি কামানোর ক্ষুর ছিল৷ তাদের আপ্যায়নে রীতিমতো ব্যস্ত হয়ে পড়েন দেবস্মিতা৷সূত্রের খবর, দেবস্মিতার অলক্ষ্যে তাঁরই ঘরে থাকা ইলেকট্রিক ইস্ত্রি দিয়ে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করা হয়৷ মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে সংজ্ঞা হারান দেবস্মিতা৷ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ক্ষুর দিয়ে হাত সহ দেহের বিভিন্ন অংশ কাটা হয়৷ এরপর পোশাক বদল করে বেরিয়ে পড়ে তারা৷ ট্রেন ধরে ফিরে আসেন বর্ধমানের বাড়িতে৷
(Feed Source: news18.com)