দিঘার জগন্নাথ মন্দির আর ধাম নয়, পুজোপাঠ হবে সাধারণ নিয়ম মেনেই, ঘোষণা শুভেন্দুর

দিঘার জগন্নাথ মন্দির আর ধাম নয়, পুজোপাঠ হবে সাধারণ নিয়ম মেনেই, ঘোষণা শুভেন্দুর

এবার ‘দিঘার জগন্নাথ ধাম থেকে ‘ধাম’ শব্দ বাদ দেওয়া হচ্ছে। ধাম শব্দ সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওড়িশার মুখ্য়মন্ত্রীর প্রস্তাব মেনে ধাম শব্দ প্রত্যাহার করা হচ্ছে।’

কলকাতা: হিন্দু ধর্মে ‘চারধাম’ (Char Dham) বলতে সাধারণত আদি শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত ভারতবর্ষের চার প্রান্তের চারটি পবিত্র তীর্থস্থানকে বোঝায়। বদ্রীনাথ, দ্বারকা, জগন্নাথ ধাম-পুরী আর রামেশ্বরমকে বোঝায়। তবে পুরীর মতো দিঘাতে জগন্নাথ মন্দিরকে ‘ধাম’ বলা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে তীব্র বিতণ্ডা তৈরি হয়েছিল ওড়িশা সরকারের। এমনকি সেই সময় পুরীর মহারাজও এই প্রসঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

তবে এবার ‘দিঘার জগন্নাথ ধাম থেকে ‘ধাম’ শব্দ বাদ দেওয়া হচ্ছে। ধাম শব্দ সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওড়িশার মুখ্য়মন্ত্রীর প্রস্তাব মেনে ধাম শব্দ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। দিঘার জগন্নাথ ধামের নাম বদলে হবে শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের নিয়ম মেনে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরে পুজো করতে হবে। আগের সরকার সনাতন ধর্ম পালন করেনি। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতিনিধি হিসাবে সম্বিত পাত্রকে পাঠিয়েছেন। দিঘার পরিচালন সমিতি নিয়ে ওয়েবসাইটে মিলবে তথ্য’, এদিন নবান্ন থেকে এমনটাই জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্রকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠান। নবান্নে সম্বিত পাত্র বলেন, ‘আগের সরকারের এই কাজে সকল ওড়িশাবাসীর খুব কষ্ট হয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের এখনের সরকার সনাতনীদের সম্মান করেন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি একটি চিঠি দেন। এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু দা।’

এদিন এই বৈঠক থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বর্তমানে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পুজো অর্চনা ইসকন দেখভাল করছে।  শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম কালচারাল সেন্টার নাম দেওয়া হয়েছিল। ধাম শব্দ সরছে, কালচারাল সেন্টার নাম থাকবে , মন্দিরের রীতি নীতি পুজোপাঠ নিয়ম মেনেই হবে। সনাতন ধর্ম না মেনে সনাতনীদের অপমান করেছে আগের সরকার’।

এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিল ওড়িশা সরকার

সেই চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘হিন্দুদের পবিত্র চার ধামের মধ্যে একটি পুরীর শ্রী জগন্নাথ ধাম। প্রচারের স্বার্থে দিঘার মন্দিরকেও জগন্নাথ ধাম বলে তৈরি হবে বিভ্রান্তি। দিঘার মন্দিরের নাম জগন্নাথ ধাম বলে প্রচার না করার আবেদন করেছিল ওড়িশা। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি দিয়েছিলেন।

(Feed Source: abplive.com)