)
El Nino India: প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া এই ‘গডজিলা এল নিনো’ যদি আগামী মাসগুলিতে আরও শক্তিশালী হয়, তবে ভারতের কৃষিক্ষেত্র থেকে শুরু করে শহরের বিদ্যুৎ গ্রিড এবং মধ্যবিত্তের পারিবারিক বাজেট—সবকিছুই ওলটপালট হয়ে যেতে পারে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আসছে ‘গডজিলা এল নিনো’, চাষবাস থেকে বিদ্যুৎ গ্রিড, রেহাই পাবে না কিছুই! প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া আবহাওয়াজনিত পরিবর্তন এবার ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসা বাণিজ্যে আঘাত হানতে চলেছে। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘এল নিনো’ (El Nino)। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF)-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এবারের এল নিনো কেবল সাধারণ আবহাওয়া বদল নয়, বরং এটি ভারতের কৃষি, শক্তি এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর একযোগে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ঝুঁকিতে ভারতের কৃষি ও খাদ্যভাণ্ডার
ভারতের প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি এখনও সেচের জন্য পুরোপুরি মৌসুমী বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এল নিনোর প্রভাবে যদি বর্ষা দুর্বল হয় বা দীর্ঘ সময় খরা চলে, তবে ধান, ডাল, সয়াবিন, তুলো এবং ভুট্টার মতো প্রধান ফসলের চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলন কম হলে বাজারে চাল, ডাল ও খাদ্যশস্যের দাম হু হু করে বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে।
জলকষ্ট এবং বিদ্যুৎ বিপর্যয়
বৃষ্টি কম হলে নদী ও জলাশয়গুলির জলস্তর নেমে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন পানীয় জলের তীব্র সংকট তৈরি হবে, অন্যদিকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হবে। এর সঙ্গেই যদি তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, তবে ফ্যান, এসি এবং রেফ্রিজারেটরের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। গত মাসেই (মে ২০২৬) ভারতে রেকর্ড ২৬৫ গিগাওয়াট (GW) বিদ্যুতের চাহিদা দেখা গিয়েছিল, যা গত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এল নিনোর জেরে গরম বাড়লে বিদ্যুৎ গ্রিডগুলির ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং লোডশেডিংয়ের সমস্যা তীব্র হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলে আঘাত
এল নিনোর প্রভাব শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অতীতে এর কারণে পানামা খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথগুলি শুকিয়ে গিয়েছিল, যার ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর পরোক্ষ প্রভাব ভারতের আমদানি-রপ্তানির ওপরও পড়তে বাধ্য।
(Feed Source: zeenews.com)
