বিক্ষুব্ধ শিবিরের আর এক সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়ে দিয়েছেন, এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকেই সমর্থন করবেন তাঁরা৷
তৃণমূলের প্রতীকের দাবি ছাড়বেন না বিক্ষুব্ধরা?
অনামী দল এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও অদূর ভবিষ্যতে তৃণমূলের প্রতীকের দাবি জানিয়ে আদালতে যাবেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা৷ এমনই দাবি করলেন এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ প্রবীণ সাংসদের দাবি, জুলাই মাসেই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করতে পারেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা৷
রবিবার সন্ধ্যায় গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলকে অবাক করে দিয়ে এনসিপিআই-এর মতো অনামী দলে যোগদানের দাবি জানিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষকে চিঠি দেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদ৷ আইনি জট এড়াতেই তৃণমূলে থেকে লোকসভায় আলাদা ব্লক তৈরির পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত দল এনসিপিআই-কে বিক্ষুব্ধ সাংসদরা বেছে নেন বলে দাবি করা হচ্ছে৷
যদিও লোকসভার অন্যতম সিনিয়র এবং বিক্ষুব্ধদের মধ্যেও অভিজ্ঞতম সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এনসিপিআই-তে যোগদান করার অর্থ এই নয় যে তাঁরা তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীকের দখল নেওয়ার দাবি থেকে সরে এলেন৷ বরং সংসদের অধিবেশন শুরু হলে জুলাই মাসের ২০ তারিখের পর তাঁরা নিজেদেরই আসল তৃণমূল বলে দাবি করে আদালতে আবেদন করবেন বলেও দাবি করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়৷
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এনসিপিআই-এ আমাদের মিশে যেতে হল কারণ দুই তৃতীয়াংশ সাংসদদের নিয়ে আলাদা হতে চাইলে প্রথমে আমাদের কোনও নথিভুক্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতেই হত৷ ২০ জুলাই যখন সংসদ খুলবে তখন তো তৃণমূলের বাকি ৮ জন সাংসদরাও এসে নিজেদের তৃণমূলের প্রতিনিধি বলেই দাবি করবেন৷ সেই মতো তাঁদেরকেও আসন বণ্টন করতে হবে৷ তখন আমরাও অধ্যক্ষকে বলব যে আমরাও তৃণমূলের প্রতীকেই ভোটে জিতে এসেছি৷ লোকসভায় আমাদের যিনি মুখ্যসচেতক হবেন তিনি বলবেন যে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ আমাদের সঙ্গেই আছেন৷ অন্য কয়েকজন এসে নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করতে পারে না৷ তখন আমরা বড় কোনও আইনজীবীকে ঠিক করে হাইকোর্টে যাবো৷ দিল্লি থেকেও আইনজীবী নিয়ে যাওয়া হবে৷
আমরা নিশ্চিত ভাবে তৃণমূলের প্রতীকের দাবি জানাবো৷ তবে আপাতত আমাদের একটা দলের ছাতার তলায় আসতেই হত৷ তাতে বেশ কিছু সুবিধাও আছে৷ অধ্যক্ষ আমাদের দাবিকে স্বীকৃতি দিয়ে লোকসভায় আলাদা ঘরও বরাদ্দ করেছেন৷
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা যে দলে গিয়েছেন, সেই এনসিপিআই নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত হলেও দলটি কমিশন স্বীকৃত নয়৷ জাতীয় বা আঞ্চলিক দল হিসেবে কমিশনের স্বীকৃতি পায়নি এনসিপিআই৷ তবে আর পাঁচটি রাজনৈতিক দলের মতো এনসিপিআই-এর নিজস্ব প্রতীক রয়েছে৷ ফলে প্রশ্ন উঠছে, এনসিপিআই-তে থেকে কীভাবে আবার অন্য একটি দলের প্রতীকের দাবি জানাবেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা? তবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় একটি বিষয় স্পষ্ট, তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল৷
(Feed Source: news18.com)