)
Air India Crash: এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের বিষয়ে ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস’ কী বলেছে! তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে হাড়হিম আপডেট।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৫ সালের ১২ জুন। যে অভিশপ্ত দিন ভোলার নায়। অমদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমান। ওড়ার মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল। রানওয়ে থেকে মাত্র ১.৭ কিলোমিটার দূরেই ছিল অমদাবাদের মেঘানিনগর এলাকার বাইরামজী জিজিভয় মেডিকেল মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাস। সেখানেই আছড়ে পড়েছিল প্রায় ২৫৪ টন ওজনের বিমান। ২৬০ জনের প্রাণ (বিমানের ২৪২ জন ও হোস্টেলের ১৯ জন)। ৬৭ জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় অলৌকিক ভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন বিমানে থাকা ১ জন যাত্রীই যাঁর নাম বিশ্বাসকুমার রমেশ। এক বছর পেরিয়েও জানা গেল না ঠিক কী কারণে সেই দুর্ঘটনা ঘটেছিল! তদন্তে রয়েছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ওরফে এএআইবি! তদন্তের রিপোর্ট আসতে এখনও দেরি আছে। আর ঠিক এই আবহে স্বচ্ছ বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (এফআইপি)।
পাইলটদের এই সংগঠন যুক্তি দিয়েছে যে, পাইলটরা মানুষকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বিমান ওড়ান না! তাছাড়া দুর্ঘটনার জন্য পাইলটই যে দায়ী! এমন তত্ত্বও প্রমাণিত নয় বলেই প্রশ্ন এফআইপি-র। প্রযুক্তিগত প্রমাণ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে সংগঠনের। মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে এফআইপি-র প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন সিএস. রানধাওয়া জানান যে, সংগঠন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ফ্লাইট ক্রুদের ভূমিকা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে কারিগরি, বৈদ্যুতিক ও সিস্টেম-সংক্রান্ত সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখা আবশ্যক। তাঁর সংযোজন, ‘দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল যাত্রী, ক্রু সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে’। রানধাওয়া বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে রীতিমতোউদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মৃত পাইলটদের উপর দায় চাপানো নিয়েও সরব হয়েছেন। সংগঠনের মতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কেন চেষ্টা চলছে? রানধাওয়া বলেন, ‘বিসলি অ্যালেন ল ফার্মের আইনজীবী মাইক অ্যান্ড্রুসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সনদপ্রাপ্ত সিমুলেটর পরীক্ষায় এমন ফলাফল পাওয়া গিয়েছে, যা প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনার ক্রমের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’
এফআইপি-র প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ০৮:০৮:৪৩-এ ইঞ্জিন বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরুর প্রায় চার সেকেন্ড পরেই বিমানটির হাইড্রোলিক ব্যবস্থা সচল হয়ে গিয়েছিল। তবে ফেডারেশন জানিয়েছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সির সনদপ্রাপ্ত একটি বোয়িং ৭৮৭ ‘লেভেল ডি’ সিক্স-অ্যাক্সিস সিমুলেটরে ১০টি স্বতন্ত্র পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে দেখা গিয়েছে যে, র্যাম এয়ার টারবাইন সক্রিয় হতে এবং হাইড্রোলিক চাপ তৈরি করতে প্রায় ১৮ সেকেন্ড সময় প্রয়োজন। হ্যামিল্টন সানস্ট্র্যান্ডের কারিগরি প্রশিক্ষণ নথির উদ্ধৃতি দিয়ে এফআইপি আরও দাবি করেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় হাই-বাইপাস টার্বোফ্যান ইঞ্জিনগুলির গতি কমে ‘ফ্লাইট আইডল’-এর নীচে নামতে প্রায় ১২ সেকেন্ড এবং র্যাট সক্রিয়করণ ব্যবস্থার জন্য আরও ছয় সেকেন্ড সময় লাগে। সংস্থার যুক্তি , তথ্যের এই অসামঞ্জস্যের কারণে তদন্তকারীদের দ্বারা সিমুলেটরের কার্যকারিতা যাচাইয়ের এক স্বচ্ছ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা প্রয়োজন। এএআইবি জানিয়েছে যে, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে এই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট আসতে দেরিই হবে। এএআইবি জানিয়েছে যে, তারা শেষ এক বছরে যাবতীয় বিষয় একেবারে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছে। পাশাপাশি প্রামাণ্য নথি বিশ্লেষণের কাজও চলছে। সেই কাজ চলবেই। আর এমন আবহে এফআইপি প্রশ্ন তুলে দিল। গোটা দেশের মানুষ জানতে মুখিয়ে যে ঠিক কী হয়েছিল! ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট রেকর্ডার থেকে জানা গিয়েছে যে, ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে থ্রাস্ট কমে গিয়েছিল। তবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে শোনা গিয়েছিল যে, একজন পাইলট তাঁর কো-পাইলটকে বলেছিলেন যে, কেন সে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ কাট-অফ করল! যা নিয়ে রহস্য় রয়েই গিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
