)
চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে বনগাঁয় অনুষ্ঠান করতে গিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয় মিমি চক্রবর্তীকে ঘিরে। প্রথমে তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগ দায়ের, তনয়ের জেল হওয়া এবং তারপর মিমির বিরুদ্ধে তনয়ের আইনি পদক্ষেপ, এই সবকিছুই চলছে বিগত কয়েক মাস ধরে।
অর্ণবাংশু নিয়োগী: আইনি জটিলতা এড়াতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। নিজের সুরক্ষায় আদালতের কাছে ‘রক্ষাকবচ’ চেয়ে মামলা দায়ের করেন তিনি। তবে মামলার শুরুতেই কিছুটা ধাক্কা খেতে হল অভিনেত্রীকে। মিমি চক্রবর্তীর রক্ষাকবচের আবেদনের দ্রুত শুনানির আর্জি আজ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আজকের শুনানির তালিকায় মিমি চক্রবর্তীর রক্ষাকবচের আবেদনটি বেশ পিছনের দিকে ছিল। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে মিমির আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতের কাছে আবেদন জানান, যাতে তালিকায় থাকা অন্য মামলা এগিয়ে এনে মিমির এই আবেদনটির দ্রুত শুনানি করা হয়। কিন্তু আদালত মিমির আইনজীবীর এই আবেদন গ্রহণ করেনি। বিচারপতি কৌশিক চন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মামলার ক্ষেত্রে এখনই কোনও দ্রুত শুনানির প্রয়োজনীয়তা নেই।
আদালতের স্পষ্ট বার্তা
বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়মানুযায়ী তালিকায় যেভাবে মামলার নম্বর রয়েছে, সেই তালিকা মেনেই যথাসময়ে এই মামলার শুনানি হবে। আলাদা করে এটিকে কোনও বাড়তি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই, আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর মিমির রক্ষাকবচ মামলার শুনানির জন্য তাঁদের এখন আদালতের নির্ধারিত তালিকার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২৫ জানুয়ারি বনগাঁ পুরসভার নয়া গোপালগঞ্জ যুবক সংঘের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। রাত পৌনে বারোটা নাগাদ তিনি মঞ্চে ওঠেন। অভিযোগ, মিমির গানের মাঝেই ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী হঠাৎ স্টেজে উঠে পড়েন। গান থামিয়ে মিমিকে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। জনসমক্ষে এমন আচরণের জেরে চূড়ান্ত অপমানিত বোধ করেন মিমি। ঘটনার পরপরই বনগাঁ থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন।
মিমির করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিস। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে বিজেপিতে যোগ দেন তনয় শাস্ত্রী। শুধু তাই নয়, জেল থেকে বেরিয়ে তনয় শাস্ত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলাও দায়ের করেন। জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে সেদিন বলেছিলেন, তিনি সহজে মিমি চক্রবর্তীকে ছেড়ে দেবেন না । তৎকালীন শাসকদলে থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি অন্যায় আচরণ করেছিলেন । সরকার বদল হতে এবার সেই অন্যায়ের বিচার চান বলে জানান তনয় শাস্ত্রী ৷
(Feed Source: zeenews.com)
