)
Lucknow Fire: মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ওই অ্যানিমেশন সেন্টারের আরেক কর্মী জয়নীল চক্রবর্তী (২৭)। তাঁর আত্মীয় বিশ্বনাথ সরকার জানান, দুপুর দুটো নাগাদ কাকিমাকে ফোন করে আতঙ্কিত জয়নীল চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘কাকিমা, আমরা আটকে পড়েছি, যেভাবেই হোক আমাদের বাঁচাও!’ ফোন পেয়েই স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছোটেন।
লখনউয়ের আলীগঞ্জের তিনতলার বহুতলের বিধ্বংসী আগুনের ভয়াবহ গ্রাস থেকে বাঁচার আকুল আকুতি নিয়ে বাবাকে ফোন করেছিলেন বছর তেইশের গেম ডিজাইনার সুখমানি সিং। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (KGMU) মর্গে দাঁড়িয়ে সুখমানির বাবা প্রভজ্যোত সিং ছেলের সেই শেষ ফোনের কথা বলছিলেন। এতো মৃত্যুতে চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল স্বজনহারাদের কান্নায়।
আলীগঞ্জের ওই বহুতলের দোতলায় একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টারে বিধ্বংসী আগুনে দমবন্ধ হয়ে এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ওই অ্যানিমেশন সেন্টারের আরেক কর্মী জয়নীল চক্রবর্তী (২৭)। তাঁর আত্মীয় বিশ্বনাথ সরকার জানান, দুপুর দুটো নাগাদ কাকিমাকে ফোন করে আতঙ্কিত জয়নীল চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘কাকিমা, আমরা আটকে পড়েছি, যেভাবেই হোক আমাদের বাঁচাও!’ ফোন পেয়েই স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছোটেন।
পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা বিকেল তিনটে নাগাদ যখন পৌঁছন, তখনও জয়নীল ফোনে লাইনে ছিলেন। তাঁদের চোখের সামনে বহুতলের দেওয়াল ভাঙা হয়। স্বজনদের দাবি, দেওয়াল ভাঙার সিদ্ধান্ত যদি প্রশাসন আরও কিছুটা আগে নিত, তবে হয়তো অনেকগুলো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হত। এই জয়নীলের সঙ্গেই থাকতেন সুরজ সিং নামের আরেক কর্মী, তিনিও এই অগ্নিকাণ্ডে মারা গিয়েছেন।
এই ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী কল্পনা শ্রীবাস্তব, তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছেলে আদিত্য শ্রীবাস্তবকে হারিয়েছেন। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘আমি দেখছিলাম কতগুলো ছেলেমেয়ে বহুতলের ড্রেন পাইপ (নিকাশি পাইপ) বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করছে। আদিত্যের বন্ধুরা কোনওমতে ঝাঁপ দিয়ে বেঁচে গেলেও আমার ছেলেটা আর বেরোতে পারল না।’
মাত্র দেড় মাস আগে ৯ হাজার টাকা মাইনের চাকরিতে ঢুকেছিলেন আদিত্য। ক্ষুব্ধ মা প্রশ্ন তোলেন, ‘যাতায়াতের সঠিক রাস্তা বা হাওয়া-বাতাস খেলার ন্যূনতম পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে এই বহুতলকে ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়া হলো?’
শ্বাসরোধ হয়েই মৃত্যু ১৫ জনের
কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর সোনিয়া নিত্যানন্দ জানান, হাসপাতালে মোট ২৪ জনকে আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৫ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, ‘মৃতদেহগুলোর শরীরে কোনও পুড়ে যাওয়ার ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন নেই। প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে মূলত বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ (Suffocation) হয়ে।’
এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত হওয়া ১৪ জন নিহতের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জয়নীল, শাহজান, মহম্মদ আব্দুল, সংযম, সাগর, নীলেশ, আদিত্য, অনামিকা, মহম্মদ আম্মার, সুরজ শাহ, ভবিষ্যৎ, সুখমানি, জ্যোতি, সুমাল্য এবং আনুচা। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি আরও একবার দেশের বহুতলগুলোর অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ও সুরক্ষার ফাঁকফোকরকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
