)
কিলিয়ান এমবাপে, আবার পাগল করে দিচ্ছেন আগুনে ফুটবল খেলে। পয়মন্ত বিশ্বকাপে আবারও জ্বলে উঠলেন তিনি। ব্যাক-টু-ব্যাক ম্যাচে জোড়া গোল করে ইতিহাস লিখলেন তিনি। ফুটবলবিশ্ব জানে যে, বিশ্বকাপ আসলেই এমবাপে দানবীয় হয়ে ওঠেন…
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এবারও বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম দাবিদার ফ্রান্স। ব্যাক-টু-ব্যাক জিতে ‘লে ব্ল্যুজ’ নকআউটে উঠে আবারও বুঝিয়ে দিল। প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ উড়িয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাককে ৩-০ চূর্ণ করল নীলবাহিনী। আবারও বিশ্বকাপে ত্রাস ছড়াচ্ছেন ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ডকাপ’ কিলিয়ান এমবাপে। ভক্ত ও ধারাভাষ্যকাররা এই উপাধি তাঁকে দিয়েছেন ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ মাতানো ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেই। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ ও ২০২২ সালে সোনার বুট জেতা এমবাপের জন্য ২০২৬ সালে কী লেখা আছে, তার উত্তর সময় দেবে।
এমবাপে অন করে দিয়েছেন তাঁর ‘ওয়ার্ল্ডকাপ সুইচ’। এই মঞ্চ আলোকিত করার অভ্যাস তাঁর বহু বছরের। এবারও বা তিনি আছেন আগুনে ছন্দে। সেনেগাল ও ইরাক ম্যাচে ফ্রান্সের গোলদাতাদের নামে ও কাজে কোনও বদল এল না। দুই ম্যাচেই এমবাপে জোড়া গোল করলেন এবং ব্র্যাডলি বারকোলা করলেন এক গোল করে। বিশ্বকাপের মাঝেই এক নরওয়েজিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের সাংবাদিক হালভোর একল্যান্ড এমবাপেকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ওপেনিং ম্যাচে আপনি দু’টি গোল করেছিলেন। হ্যারি কেন এবং আর্লিং হাল্যান্ডে তাই করেছেন। মেসিও করেছেন তিনটি। তাহলে এই মুহূর্তে আপনাদের মধ্যে সেরা কে?’ যা শুনে এমবাপে বলেছিলেন, ‘চারজন খেলোয়াড়ের মধ্যে সেরা? অবশ্যই লিওনেল মেসি। ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে সেও বিশ্বের সেরা। এটা পরিষ্কার। বাকি বিষয়গুলি সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক এবং ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার বিষয়। কে সেরা বা কে ভালো খেলছে—খেলোয়াড়দের নিয়ে এমন আলোচনা বা বিতর্ক হওয়াটা ভালোই। তবে আমার নিজের কাছে এই নিয়ে কোনও সংশয় বা প্রশ্ন নেই যে কে সেরা।’
ছোটবেলায় যে ঘরে এমবাপে থাকতেন, সেই ঘরের দেওয়ালে শুধুই থাকত সিআর সেভেনের পেপার কাটিং ও পোস্টার। এমবাপের আইডল রোনাল্ডোই। ছোট থেকেই তিনি পর্তুগিজ জাদুকরের জুতোয় পা গলাতে চেয়েছেন। এখন দু’জনের সম্পর্ক বন্ধুর মতো। রোনাল্ডোর চরম ভক্ত এমবাপে ক্লোজেকে ছুঁয়ে এবার মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। পরপর দু’ম্যাচে জোড়া গোল করে ইতিহাস লিখে ফেললেন তিনি। এখন ফিফা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি দুয়ে। ১৬ গোল করা হয়ে গেল তাঁর। ‘মিস্টার ওয়ার্ল্ডকাপ’ এখন ‘সুইট সিক্সটিন’-এ। এমবাপে ছুঁয়ে ফেলেলেন মিরোস্লাভ ক্লোজেকে (১৬)। এমবাপের সামনে শুধুই মেসি। যিনি অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে উঠে পড়েছেন এভারেস্টের চূড়ায়। ১৮ গোল করে সবার উপরে লিয়ো। তবে সাপলুডোর খেলায় এখন LM 10 vs KM 10। জাতীয় দলের হয়ে ১০০ ম্যাচ খেলে ৬০টি আন্তর্জাতিক গোল করা হয়ে গেল এমবাপের। তিনি ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা। ছাপিয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন তারকা অলিভার জিরুকে (৫৭ গোল)। বলাই বাহুল্য এমবাপে তাঁর দেশের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতাও! এমবাপে দেশের জার্সিতে ইরাকের বিরুদ্ধে ১০০ তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলস্টোন তৈরি করেছেন। আর এই ম্যাচ বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘতম ম্যাচ হয়ে থাকল। কারণ ফিলাডেলফিয়াতে আবহাওয়া রুদ্রমূর্তি ধারন করেছিল। বিরতির পর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভয়ঙ্কর ঝড়বৃষ্টির কারণে ২ ঘণ্টা ১৩১ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। যার ফলে দেড় ঘণ্টার খেলা শেষ হল ৪ ঘণ্টায়।
(Feed Source: zeenews.com)
