)
Chhattisgarh Crime: মহালুঙ্গা নামের ওই ছোট গ্রামটিতে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আটজন সুস্থ-সবল পুরুষের আকস্মিক মৃত্যুতে শেষ পর্যন্ত পুলিসের মনে খটকা লাগে। প্রতিটি মৃত্যুর ধরণ এবং উপসর্গের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পান তদন্তকারীরা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টাকা এবং সম্পত্তির লোভে গ্রামের একের পর এক নিরীহ মানুষকে বিষ খাইয়ে খুন। আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতোই মৃতদের শেষকৃত্যে ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে হাজির থেকে শোকপ্রকাশের ভান করাও ছিল তার খেলা। ছত্তীসগঢ়ের মহালুঙ্গা গ্রাম থেকে সম্প্রতি এমনই এক হাড়হিম করা সিরিয়াল কিলিং বা ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পর্দাফাঁস করেছে পুলিস।
গত কয়েক মাসে ওই গ্রামের অন্তত আটজন পুরুষকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করার অভিযোগে পুলিস এক ‘সাইকো কিলার’কে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের এই পৈশাচিক মানসিকতা এবং অপরাধের ধরন দেখে থতমত খেয়ে গেছেন খোদ দুঁদে তদন্তকারীরাও।
যেভাবে চলত খুনের ধারাবাহিক খেলা
পুলিসি তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামের এমন পুরুষরা, যাঁরা আর্থিকভাবে কিছুটা সচ্ছল অথবা যাঁদের কাছ থেকে সহজে টাকা হাতানো সম্ভব। অভিযুক্ত প্রথমে তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সম্পর্ক গড়ে তুলত। এরপর সুযোগ বুঝে তাঁদের মদ্যপান বা খাবারের লোভ দেখিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যেত। সেখানে খাবারের সঙ্গে এক ধরনের মারাত্মক বিষ মিশিয়ে দিত সে।
বিষের প্রতিক্রিয়ায় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়কভাবে ছটফট করতে করতে মৃত্যু হত ওই ব্যক্তিদের। কিন্তু অপরাধী এতটাই ধূর্ত ছিল যে, সে বিষের মাত্রা এমনভাবে নির্ধারণ করত যাতে সাধারণ মানুষের চোখে তা হৃদরোগ (Heart Attack) বা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হয়।
শেষকৃত্যে যোগ দিয়ে গভীর শোকপ্রকাশের ভান!
এই সাইকো কিলারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর স্বভাব ছিল খুনের পরে তার আচরণ। বিষপ্রয়োগে কারও মৃত্যু হওয়ার পর গ্রামের বাকিদের সঙ্গে সে-ও মৃত ব্যক্তির বাড়িতে ছুটে যেত। কান্নায় ভেঙে পড়া পরিবারকে সান্ত্বনা দিত এবং শবদাহ বা শেষকৃত্যের কাজে হাত বাড়াত। এমনকি মৃতদের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেও তাকে সামনের সারিতে বসে থাকতে দেখা যেত। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের কারও মনেই তার প্রতি বিন্দুমাত্র সন্দেহের উদ্রেক হয়নি। প্রত্যেকেই তাকে পরোপকারী ও সহানুভূতিশীল প্রতিবেশী হিসেবেই জানতেন।
যেভাবে ধরা পড়ল খুনি
মহালুঙ্গা নামের ওই ছোট গ্রামটিতে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আটজন সুস্থ-সবল পুরুষের আকস্মিক মৃত্যুতে শেষ পর্যন্ত পুলিসের মনে খটকা লাগে। প্রতিটি মৃত্যুর ধরণ এবং উপসর্গের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পান তদন্তকারীরা। এরপরই পুলিস গোপনে ওই মৃত ব্যক্তিদের কল রেকর্ড, শেষ সময়ে তাঁরা কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন এবং তাঁদের আর্থিক লেনদেনের ইতিহাস খতিয়ে দেখতে শুরু করে।
ডিজিটাল তথ্য এবং স্থানীয় সূত্র ধরে তদন্ত করতেই পুলিস দেখতে পায়, প্রতিটি মৃত্যুর ঠিক আগেই ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে ধৃতের যোগাযোগ হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মৃতদের কয়েকজনের অ্যাকাউন্ট বা কাছ থেকে বেশ কিছু টাকাও গায়েব হয়েছিল।
এই সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিস অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রথমদিকে সে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পুলিসের অকাট্য তথ্যপ্রমাণ এবং জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে সে। নিজের মুখে স্বীকার করে যে, টাকা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই সে একে একে আটজনকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে।
এই রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনাটি সামনে আসার পর পুরো ছত্তীসগঢ় জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। গ্রামের মানুষ যাকে পরম বন্ধু ভেবেছিলেন, সে-ই যে আসলে যমদূত হয়ে তাঁদের মাঝেই ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন মহালুঙ্গার বাসিন্দারা। পুলিস ধৃতের বিরুদ্ধে খুন ও প্রমাণ লোপাটের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
