
North 24 Parganas News: শৈশবের কষ্ট থেকে শিক্ষা, টিউশন করিয়ে প্রতিদিন অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দেন যুবক, হাবড়ার এই যুবকের কাহিনি জানলে আঁতকে উঠবেন৷
উত্তর ২৪ পরগনা, রুদ্র নারায়ণ রায়: মা-বাবাহীন শৈশবের কষ্ট থেকে মানবসেবার ব্রত, টিউশন করিয়েই প্রতিদিন অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দেন হাবড়ার এই যুবক। এক বছর বয়সেই মাকে হারিয়েছিলেন। এরপর বাবাও ছেড়ে চলে যান। ছোটবেলায় মা-বাবার স্নেহ-ভালবাসা না পাওয়ার যন্ত্রণা নিয়েই বড় হয়ে ওঠা। সেই অভাব ও কষ্টই আজ অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর প্রেরণা হয়ে উঠেছে।
হাবড়ার খারো এলাকার যুবক রনিত সিংহ রায় নিজের সামর্থ্যের মধ্যেই প্রতিদিন অসহায় ও ভবঘুরে মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়ে মানবতার এক অনন্য নজির গড়েছেন। রনিত জানান, মা মারা যাওয়ার পর ঠাকুমাই তাকে আগলে মানুষ করেছিলেন। পরে ঠাকুমার মৃত্যুর পর জেঠ্যু-জেঠির কাছেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি। তবে ছোটবেলা থেকেই নানা অভাব-অনটনের মধ্যে কাটাতে হয়েছে জীবন। ভাল কিছু খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তা অনেক সময় পূরণ হয়নি। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা জুগিয়েছে।
বর্তমানে এলাকার প্রায় ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে ইংরেজি পড়ান রনিত। হাবড়া চৈতন্য কলেজ থেকে ইংরেজি নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর জীবিকার তাগিদে টিউশানি শুরু করেন। সেই টিউশানির আয় থেকে নিজের ন্যূনতম খরচ মিটিয়ে বাকি অর্থ ব্যয় করেন অসহায় মানুষদের জন্য খাবার তৈরিতে। প্রতিদিন ভোর সাড়ে চারটায় ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রান্নার কাজে হাত লাগান তিনি। ভাত, ডাল, তরকারির পাশাপাশি কখনও মাছ, মাংস, ডিম বা মিষ্টিও থাকে মেনুতে। দুপুর পর্যন্ত রান্না শেষ করে খাবারের গামলা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বিভিন্ন স্টেশন ও এলাকায়। বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ শাখার বিভিন্ন রেলস্টেশন, প্ল্যাটফর্ম এবং পথবাসীদের কাছে পৌঁছে দেন সেই খাবার। রনিতকে দেখলেই এখন অনেক অসহায় মানুষ খাবারের আশায় ছুটে আসেন।
(Feed Source: news18.com)
