তারাতলায় ভয়াবহ বিপর্যয়! ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান গোডাউন, নিচে আটকে বহু, ঘটনাস্থলে শোকের ছায়া

তারাতলায় ভয়াবহ বিপর্যয়! ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান গোডাউন, নিচে আটকে বহু, ঘটনাস্থলে শোকের ছায়া

West Bengal

-Ritesh Ghosh

কলকাতার তারাতলায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল। মাঝদুপুরে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু নির্মাণকর্মী আটকে রয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষের ভিতর থেকে শ্রমিকদের কান্নার আওয়াজ এবং বাঁচানোর আকুতি শোনা যাচ্ছে। খবর পেয়েই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তারাতলা ব্রেসব্রিজের একদম কাছে ট্রান্সপোর্ট ডিপোর সংলগ্ন এলাকায় এই গোডাউনটি তৈরি করা হচ্ছিল। দুপুরের দিকে বিকট শব্দ করে হঠাৎই পুরো কাঠামোটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কাছেই একটি মন্দিরে পুজো চলছিল। হঠাৎ বোমা ফাটার মতো একটি বিকট শব্দ শুনে তাঁরা ভয় পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন।

Rescue teams searching for victims at Taratala building collapse

বিপর্যয় কতটা মারাত্মক আকার নিয়েছে তা দুর্ঘটনাস্থলের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। বিশাল এই গোডাউনের একতলার বিশাল আকারের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করার সময় হঠাৎই এই ভাঙন ঘটে। তিনতলা বিল্ডিংয়ের ওপরের দুটি তলার কংক্রিটের ঢালাইয়ের কাজ কয়েক দিন আগে সুসম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। নীচের দিকে যখন নির্মাণকর্মীরা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ করছিলেন, তখনই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে লোহার ভারী বিম, কাঁচামাল ও প্লাস্টারের চাঙড়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় থানার পুলিশ এবং দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত লালবাজার ও নবান্ন থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে তলব করা হয়। ধ্বংসস্তূপ সরাতে এবং লোহার বিম কাটতে নামানো হয়েছে অত্যাধুনিক ক্রেন এবং গ্যাস কাটার। পরবর্তীতে উদ্ধারকাজে গতি আনতে এবং নিখোঁজদের হদিশ পেতে ভারতীয় সেনার সাহায্যও নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, বিশাল লোহার কাঠামোর নিচে চাপা পড়ে থাকায় অত্যন্ত সাবধানে কাজ করতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতায় বড় বিপদ হতে পারে। গ্যাস কাটার দিয়ে লোহার বিম কাটার সময় যাতে ভিতরে আটকে থাকা জীবন্ত মানুষের শরীরে কোনও আঁচ না লাগে, সেদিকে কড়া নজর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন শ্রমিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্ট্রেচারে করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ধ্বংসস্তূপের ঠিক বাইরে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে চাপা পড়ে থাকা শ্রমিকদের আর্তনাদের শব্দ ক্রমশ দুর্বল হয়ে আসছে। বাইরে থাকা পুলিশকর্মী, উদ্ধারকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নাম ধরে ধরে নিখোঁজ শ্রমিকদের ডাকার চেষ্টা করছেন, যাতে ভেতরে থাকা মানুষের সাড়া পাওয়া যায়। চাপা পড়ে থাকা মানুষদের সাহস ও আশ্বাস জোগানোর অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে আটকে থাকা কর্মীদের পরিবার, উৎকণ্ঠিত মানুষ ও তাঁদের আত্মীয়দের সাহায্য করার জন্য রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুম থেকে উদ্ধারকাজের সব রকমের লাইভ আপডেট এবং আহত ও নিখোঁজদের সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হবে। নবান্নের নির্দেশেই দ্রুত কয়েকটি জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।

হেল্পলাইন বা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যম যোগাযোগের নম্বর
ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টোল ফ্রি নম্বর 1070
বিশেষ মোবাইল নম্বর 8697981070
কলকাতা কন্ট্রোল রুম ল্যান্ডলাইন নম্বর ১ 033 22143526
কলকাতা কন্ট্রোল রুম ল্যান্ডলাইন নম্বর ২ 033 22535185

প্রশাসনের অন্দরের খবর অনুযায়ী, এই ধরনের বহুতল বাণিজ্যিক গোডাউন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন এবং পুরসুরক্ষা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একতলার ছাদ ঢালাইয়ের মতো চরম স্পর্শকাতর কাজের সময় নির্মাণ স্থলে কেন যথাযথ নিরাপত্তা কাঠামো কিংবা অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না, সেই বড় প্রশ্নটি কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। কন্সট্রাকশন বিশেষজ্ঞদের মতে কাঠামোগত দুর্বলতাই এই পতনের কারণ।

আপাতত রাজ্য প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলির একমাত্র প্রধান লক্ষ্য হল ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে থাকা শেষ শ্রমিকটিকেও নিরাপদে বাইরে বের করে আনা। ভারী কংক্রিটের চাঙড় ও এলোমেলো লোহার গার্ডার ছড়িয়ে থাকায় সমগ্র উদ্ধার তদারকি শেষ হতে আরও বেশ কিছুটা দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন দমকল ও পুলিশের উর্ধ্বতন আধিকারিকরা। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং উদ্ধারকাজ দ্রুত তরান্বিত করতে সেখানে অতিরিক্ত র‍্যাফ ও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

(Feed Source: oneindia.com)