)
Corona Virus Health News: চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিক, গর্ভবতী মহিলা, শিশু এবং যারা আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হাঁপানি বা হৃদরোগের মতো ক্রনিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের এই সময়ে অতিরিক্ত সাবধানে থাকতে হবে। কারণ, এই হাই-রিস্ক গ্রুপের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আবার কোভিড? আবার ঘরবন্দি? আবার লকডাউন? ফিরছে সেই ২০২০-২১ সালের ভয়ংকর স্মৃতি? শবদেহের সারি আর হাসপাতালে বেডের অভাবে মানুষের আর্তনাদ?
শহরের বর্তমান খামখেয়ালি আবহাওয়া এবং দেরিতে বর্ষা আসাকেই এই ট্রিপল অ্যাটাক বা ভাইরাসের যৌথ দাপটের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, গত এক মাস ধরে মুম্বইতে সোয়াইন ফ্লু-র দাপট ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু গত এক সপ্তাহে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কামব্যাক করেছে কোভিড। ল্যাবরেটরি ও হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন নতুন নতুন কোভিড ও এইচ১এন১ রোগী শনাক্ত হচ্ছেন।
কেন এই আকস্মিক সংক্রমণ বৃদ্ধি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মরসুমে মুম্বইয়ের আবহাওয়ায় এক অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণত নিয়মিত বর্ষা শুরু হলে আবহাওয়া কিছুটা স্থিতিশীল হয়। কিন্তু এবার বর্ষা দেরিতে আসায় তীব্র গরম, অত্যধিক আর্দ্রতা এবং মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টির এক মিশ্র পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাপমাত্রার এই ঘন ঘন ওঠানামা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (Immunity) দুর্বল করে দিচ্ছে, যার ফলে ভাইরাসগুলি সহজেই আক্রমণ করতে পারছে।
একই সময়ে একাধিক ভাইরাসের সক্রিয় হয়ে ওঠাকে চিকিৎসকেরা ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বলে ব্যাখ্যা করছেন। যেহেতু কোভিড, সোয়াইন ফ্লু এবং আরএসভি– তিনটিরই প্রাথমিক উপসর্গ (জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও ক্লান্তি) প্রায় এক, তাই সাধারণ মানুষ প্রথমদিকে বুঝতে পারছেন না তাঁরা ঠিক কোন ভাইরাসে আক্রান্ত। ফলে পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।
প্রধান তিনটি ভাইরাসকে চিনে নিন:
কোভিড-১৯ (Covid-19): অতিমারী পর্ব শেষ হলেও কোভিড পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি। বয়স্ক এবং অন্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এটি এখনও কাবু করছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে মুম্বাইতে কোভিডের যে রূপ দেখা যাচ্ছে, তা মূলত মৃদু উপসর্গযুক্ত।
এইচ১এন১ বা সোয়াইন ফ্লু (H1N1): এটি একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, যার মরসুমি প্রকোপ দেখা যায়। তীব্র জ্বর, গায়ে হাত-পায়ে ব্যথা, কাঁপুনি ও চরম দুর্বলতা এর প্রধান লক্ষণ। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট মারাত্মক হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে।
আরএসভি (RSV): এই ভাইরাসটি সাধারণত শিশু, প্রবীণ এবং কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষদের ফুসফুসে আক্রমণ করে। এটি সাধারণ ঠাণ্ডা লাগার মতো মনে হলেও অবহেলা করলে ব্রঙ্কিওলাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
কাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে?
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিক, গর্ভবতী মহিলা, শিশু এবং যারা আগে থেকেই ডায়াবেটিস, হাঁপানি বা হৃদরোগের মতো ক্রনিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের এই সময়ে অতিরিক্ত সাবধানে থাকতে হবে। কারণ, এই হাই-রিস্ক গ্রুপের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
সুরক্ষার উপায়: কী কী নিয়ম মানবেন?
ভাইরাসের এই ত্রিমুখী আক্রমণ থেকে বাঁচতে চিকিৎসকেরা কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
১. হাত পরিষ্কার রাখুন: নিয়মিত সাবান-জল দিয়ে হাত ধোওয়া অথবা অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
২. মাস্কের ব্যবহার: হাসপাতাল, গণপরিবহন বা অতিরিক্ত ভিড়ের জায়গায় মাস্ক পরলে ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ানো সংক্রমণ অনেকটাই আটকানো যায়।
৩. দূরত্ব বজায় রাখুন: বাড়িতে বা বাইরে কেউ অসুস্থ হলে তাঁর থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
৪. অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকুন: জ্বর বা কাশি হলে অফিস বা স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নিন, যাতে সংক্রমণ অন্যদের মধ্যে না ছড়ায়।
৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান: পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সঠিক পরিমাণে ঘুমান।
সবশেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ, একটানা তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টিকে সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা ভেবে অবহেলা না করে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
(Feed Source: zeenews.com)
