)
কেতনের বাবা বলেন, ‘যদি ও বিয়ে করতে না চাইত, তবে সহজেই না করে দিতে পারত। আমরা তৎক্ষণাৎ বিয়ে বাতিল করে দিতাম। এত বড় পদক্ষেপের কী দরকার ছিল? এরা কতটা নিষ্ঠুর মানসিকতার যে একটা ২৬ বছরের ছেলেকে খুন করে ফেলল!’
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হবু স্ত্রীয়ের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন লোনাভলায় লোহাগড় দুর্গে। কিন্তু কে জানত, সেটাই ছিল জীবনের শেষ যাত্রা! পুনের এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের পর স্তম্ভিত গোটা দেশ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বিচার চেয়ে বুকফাটানো কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিহতের মা। ছেলের এই মর্মান্তিক পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেতনের বাবা। তাঁর কথায়, ‘বিয়েতে আপত্তি থাকলে না করে দিত! কেন মারল?’
গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গ থেকে নিচে পড়ে যান কেতন। ঘটনার পর তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল পুলিসকে জানায়, পাহাড়ে ঘোরার সময় পা পিছলে দুর্ঘটনাবশত নিচে পড়ে গেছেন কেতন। কিন্তু পুণে গ্রামীণ পুলিসের পুলিস সুপার সন্দীপ সিং গিল জানান, কেতন একজন অভিজ্ঞ ট্রেকার, তাই তাঁর এভাবে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার তত্ত্ব খতিয়ে দেখতে গিয়েই সন্দেহ হয় পুলিসের।
পরবর্তীতে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন এবং প্রযুক্তিগত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখতেই সিয়ার মিথ্যে ধরে ফেলে পুলিস। জানা যায়, গত এক বছর ধরে চেতন চৌধুরী নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সিয়ার। চেতন আলাদা একটি স্কুটারে করে সেদিন লোহাগড় দুর্গে পৌঁছায়। এরপর নির্জন জায়গায় সুযোগ বুঝে সিয়া ও চেতন দুজনে মিলে কেতনকে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে ঠেলে ফেলে দেয়। পুলিস দুজনকে গ্রেফতার করার পর তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
এয়ারপোর্টে পাসপোর্ট চুরি থেকে বালি সফর বাতিল: নেপথ্যে কি সিয়া?
কেতনের বাবা জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেতন ও সিয়ার আংটি বদল (বাগদান) হয়েছিল। আগামী ৬ জুন তাঁদের দুই বন্ধুর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর রহস্যজনকভাবে কেতনের পাসপোর্টটি চুরি হয়ে যায়। ফলে বাকিরা চলে গেলেও কেতনকে বাড়ি ফিরে আসতে হয়। এখন পুলিসের অনুমান, কেতনকে বালি যেতে না দেওয়া এবং ভারতে রেখে এই খুনের ছক কষার পেছনেও হয়তো সিয়ার হাত ছিল।
“ওদের মানসিকতা এতো নিষ্ঠুর কী করে হয়?” বুক ফাটছে বাবার
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কেতনের বাবার প্রশ্ন, “যদি ও বিয়ে করতে না-ই চাইত, তবে সরাসরি আমাদের ‘না’ বলে দিতে পারত। আমরা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দিতাম। কিন্তু এই চরম পদক্ষেপ কেন? ওদের মানসিকতা এতোটা নিষ্ঠুর কী করে হতে পারে যে একটা ২৬ বছরের ছেলেকে এভাবে মেরে ফেলল!” তিনি সরকারকে এই মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে চালিয়ে অপরাধীদের দ্রুত কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
“আমার বিশ্বাস ভেঙে দিল ও”, দাবি মায়ের
কেতনের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ছেলে আর নেই। এর জন্য সিয়া আর ওর বয়ফ্রেন্ড সম্পূর্ণ দায়ী। ও আমাদের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করেছে, বেইমানি করেছে। বিয়ের আগে আমরা কতবার একসঙ্গে শপিংয়ে গেছি, রাতের খাবার খেয়েছি, কোনোদিন বুঝতেই পারিনি ওর মনে এমন একটা খুনি লুকিয়ে আছে। আমি ওই দুজনেরই ফাঁসি চাই।”
কেন এই নৃশংস খুন? তদন্তে পুলিস
তদন্তে জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে বাগদানের পরে দুই পরিবারে জোরকদমে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। তারই মধ্যেই নাকি তৈরি হচ্ছিল অন্য এক সমীকরণ। পুনে গ্রামীণ পুলিসের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং চেতন চৌধরির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল কেতনের সঙ্গে বিয়ের অনেক আগেই। সিয়া ও চেতনের পরিচয় হয়েছিল গত বছর এক দিওয়ালির পার্টিতে। সেখান থেকেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে।
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, সম্পর্কের টানাপোড়েন, অন্য কোনো গোপন শত্রুতা বা ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিয়া। পুলিস অভিযুক্ত যুবতীকে গ্রেফতার করে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করছে। এই নৃশংস খুনে হবু স্ত্রী একাই জড়িত ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বড় চক্র বা সহযোদ্ধা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুনে পুলিস।
(Feed Source: zeenews.com)
