
তদন্তে উঠে এসেছে, এটা কোনও আকস্মিক আবেগের বশবর্তী হয়ে ঘটানো অপরাধ নয়। ফরেন্সিক তথ্য এবং নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কেতনের জীবনের শেষ ৭২ ঘণ্টা ছিল সুপরিকল্পিত ফাঁদের অংশ, যাতে নিশ্চিত করা হয় যে, সে যেন আর কোনওভাবেই জীবিত অবস্থায় ওই পাহাড়চূড়া থেকে ফিরতে না পারে। তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্তরা ধীরে ধীরে মানসিক প্রভাব খাটানো থেকে শুরু করে শারীরিকভাবে নজরদারি, সবকিছুই পরিকল্পনা করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পারিবারিকভাবে ঠিক হওয়া বিয়ে ভেঙে দেওয়া, কিন্তু একই সঙ্গে ধনী পরিবারের সামাজিক মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ রাখা।
এরপর তিনি গোপনে দোকানের এক কর্মচারীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে শুরু করেন। সেই ফোনের মোবাইল ডেটা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়, যাতে জিপিএসের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করা কঠিন হয়। অভিযোগ, এই ফোনটি ব্যবহার করেই তিনি সিয়া গোয়ালের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করেন।
১৭ জুন, সোমবারের মধ্যে পুরো ফাঁদ প্রস্তুত হয়ে যায়। সিয়া কেতনকে বোঝান, বিয়ের আগে খুবই মানসিক চাপ চলছে তাঁর৷ তাই তা কাটাতে মঙ্গলবার সকালে লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে যেতে ইচ্ছে করছে তাঁর। কেতন সেই প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান৷ কিন্তু, তিনি জানতেন না যে, এই সাধারণ, আপাতদৃষ্টিতে রোমান্টিক প্ল্যান আসলে তাঁর মৃত্যুর ফাঁদ৷ ওঁদের বেরনোর সময়, গাড়ির নম্বরসহ সমস্ত তথ্যই ওই কর্মচারীর ফোনের মাধ্যমে চেতনকে জানানো হচ্ছিল বলে পরে জানতে পেরেছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, চেতন আগেই দুর্গের এলাকা ঘুরে দেখে এমন কিছু খাড়া ধার এবং নির্জন জায়গা চিহ্নিত করেছিলেন, যেখানে নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় যে কাউকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে সহজেই সেটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানো যায়।
লোহাগড় দুর্গের পাদদেশে পৌঁছে চেতন এমন একটি ভুল করেন, যা পরে তাঁর অ্যালিবাই ভেঙে দেয়। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে তিনি জুন মাসের প্রচণ্ড গরমেও ভারী শীতের হুডি এবং একটি হেডসেট পরে ছিলেন। এই অস্বাভাবিক পোশাক স্থানীয় বিক্রেতাদের নজরে আসে এবং সিসিটিভি ক্যামেরাতেও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
(Feed Source: news18.com)
