)
Japan Earthquake: ভেনেজুয়েলার পরে জাপান। সূর্যোদয়ের দেশে এবার কেঁপে উঠল বহুতলের পর বহুতল। সাতসকালেই আতঙ্কে রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ! বন্ধ বুলেট ট্রেন পরিষেবা। বন্ধ স্কুল। আজ কি ভূমিকম্পের দিন?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার পরে এবার জাপান। সূর্যোদয়ের দেশে এবার কেঁপে উঠল বহুতলের পর বহুতল। সাতসকালেই আতঙ্কে রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ! শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে ফের কি সুনামি-সতর্কতা দ্বীপদেশে? রিখটার স্কেলে এই কম্পনটির মাত্রা ছিল ৬.৯। প্রাথমিক ভাবে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলীয় শহর কুজি থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে। বন্ধ বুলেট ট্রেন পরিষেবা। বন্ধ স্কুল।
সুনামি সতর্কতা
রিখটার স্কেলে জাপানের এই কম্পনটির মাত্রা ছিল ৬.৯। পরে সেই তথ্যটি পরিমার্জনা করে জানানো হয়, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্র ছিল ৭.২! না, তা সত্ত্বেও উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাথমিক ভাবে কোনও ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করেনি জাপানের আবহাওয়া দফতর। তবে, কোথাও কোথাও অল্পবিস্তর জলস্ফীতি চোখে পড়েছে।
৭.৪
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসেই ভয়ংকর ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল জাপান। সেদিন বিকেলের দিকে জাপানে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়েছিল। জাপানের উত্তর-পূর্বে তোহোকু এলাকায় এই জোরালো কম্পনটি হয়। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। যদিও হতাহতের ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সেবার তড়িঘড়ি সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
মেগা-ভূমিকম্প
জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এ অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পের পর এক সপ্তাহব্যাপী মেগা-ভূমিকম্প সতর্কতা জারিই ছিল সেখানে।
উদ্ধার-ত্রাণ
বৃহস্পতিবার সকালের ব্যস্ত সময়ে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী টোকিওতেও হালকাভাবে অনুভূত হয়। সরকারের প্রধান মুখপাত্র মিনোরু কিহারা জানান, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, তার সরকার মানুষের জীবনকে সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমেছে। প্রয়োজনে ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য আফটারশক সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান।
এবং ভেনেজুয়েলা
ভারতীয় সময়ে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে ভয়ংকর ভূমিকম্প কেঁপে উঠেছিল গোটা ভেনেজুয়েলাও। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা USGS বলেছে, ওই ভূমিকম্পে ১০০০০-এর বেশি মানুষের মারা যাওয়ার আশঙ্কা ৪৪%, আর ১ লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে ৩০%! জোড়া কম্পনে কেঁপে উঠেছে ভেনেজুয়েলার উপকূল-এলাকা। মাত্র ৩৯ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে একটি কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.২ এবং অন্যটি ৭.৫। পাশাপাশি ছিল ২০টি আফটার শক।
ক্ষয়ক্ষতি
দু’টি ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। দেশের প্রধান বিমানবন্দর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজ আপাতত বন্ধ। দেশের সমস্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আহতদের সাহায্যের জন্য হাসপাতালে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, গত ১২৬ বছরের মধ্যে এটিই ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প! এর আগে ১৯০০ সালে সেখানে ৭.৭ মাত্রার এক ভয়ংকর ভূমিকম্প হয়েছিল।
বাড়িটা যেন হাওয়ায় দুলছিল
হু বাড়ি ভেঙেচুরে নষ্ট। স্থানীয়দের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। একটি ২২ তলা বাড়ি ধুলোর মতো গুঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। রবের্তো গামাস নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি সেই ভয়ংকর মুহূর্তের কথা মনে করেই আঁতকে উঠছেন। তিনি বলছেন, বাড়িটাকে তিনি স্রেফ এদিক-ওদিক দুলতে দেখেছেন। প্রথমে ওপর থেকে সব নীচে পড়তে লাগল। তারপর চোখের সামনে গোটা বিল্ডিংটা শেষ! ভগবানকে ধন্যবাদ যে, আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছিলাম।
(Feed Source: zeenews.com)
