)
Mumbai Local Train Murder: দরজা বন্ধ করতে বলায় তিনি অপমানিত বোধ করেছিলেন। পুলিসের কাছে এমনই দাবি করেছেন মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে সহযাত্রীকে কুপিয়ে খুনে অভিযুক্ত যুবক। খুনের পর কর্নাটকে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন। কিন্তু…
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ট্রেনের কামরার দরজা আটকে দাঁড়ানো নিয়ে সামান্য বচসা কীভাবে একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল, তা শুনেই তাজ্জব পুলিস। মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় সহযাত্রীকে নৃশংসভাবে ছুরি মেরে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। ধৃত যুবকের নাম রোশন সুবর্ণ (তিনি কর্ণাটকের বাসিন্দা)। আর এই হামলায় নিহত যুবকের নাম ময়ঙ্ক লোহার। বৃষ্টির দিনে ট্রেনের দরজা খোলা-বন্ধ করা নিয়ে সামান্য বচসা এবং তার জেরে এক যুবক কীভাবে ‘অপমানিত’ বোধ করে সহযাত্রীকে খুন করেন রোশন।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মঙ্গলবার রাতে চার্চগেট থেকে নালাসোপারাগামী একটি লোকাল ট্রেনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটি তখন গোরেগাঁও এবং মালাড স্টেশনের মাঝে ছিল। সেদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। ট্রেনের কামরার ভেতরে যাতে বৃষ্টির ছাঁট না আসে, সেজন্য ট্রেনের দরজা বন্ধ করা ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত রোশন সুবর্ণ বারবার ট্রেনের দরজা খুলে দিচ্ছিলেন। বৃষ্টির জলে ভেতরে থাকা যাত্রীরা ভিজে যাচ্ছিলেন বলে অনেকেই তার প্রতিবাদ করেন।
রোশন বারবার দরজা খুলে দিচ্ছিলেন আর নিহত যুবক ময়ঙ্ক লোহার গিয়ে সেই দরজা বন্ধ করে দিচ্ছিলেন। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন ট্রেনের কয়েকজন সহযাত্রী মিলে রোশনকে মারধর করেন এবং তাকে অন্য গেটের দিকে পাঠিয়ে দেন। সবার সামনে এভাবে মার খেয়ে চরম অপমানিত বোধ করেন রোশন। তার মনে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং এর জন্য তিনি ময়ঙ্ককেই দায়ী করেন। এরপর রোশন অন্য গেট থেকে আচমকাই আবার ময়ঙ্কের সামনে ফিরে আসেন এবং ব্যাগ থেকে একটি ধারালো ছুরি বের করে ময়ঙ্কের বুকে ও পেটে একের পর এক আঘাত করেন।
ঘটনার পর যা ঘটেছে
চলন্ত ট্রেনের ভেতরেই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন ময়ঙ্ক। এই সুযোগে ভিড়ের মধ্যে মিশে পালিয়ে যান রোশন। তিনি মুম্বই ছেড়ে কর্ণাটকে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন। কিন্তু রেল পুলিস এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের তৎপরতায় বুধবারই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ময়ঙ্ক লোহারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিসের কাছে জেরায় অভিযুক্ত রোশন সুবর্ণ স্বীকার করেছেন যে, ট্রেনের দরজা বন্ধ করতে বলা এবং সহযাত্রীদের হাতে মার খাওয়ার পর তিনি এতটাই “অপমানিত” বোধ করেছিলেন যে রাগের মাথায় তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন।
(Feed Source: zeenews.com)
