
রবিবার ভোরে আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ড ইরানের একাধিক জায়গায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের সেনা ঘাঁটি, নজরদারি পরিকাঠামোর উপর হামলা চালানো হয়। হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় আমেরিকার নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা। তাদের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ‘M/V Ever Lovely জাহাজে হামলার জবাব গতকাল ইরানকে দিয়েছিল আমেরিকা। যুদ্ধবিরতির শর্তাবলীকে সম্মান জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ওদের। কিন্তু এদিন ভোর ৪.৩০টে নাগাদ বিনা প্ররোচনায় M/T Kiku জাহাজে হামলা চালায় ওরা। পানামার পতাকা লাগানো জাহাজটি ২০ লক্ষ ব্যারেলের বেশি তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালী পেরোচ্ছিল’। প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। (US Strikes Iran)
U.S. Navy and Air Force fighter jets conducted strikes tonight on 10 Iranian military targets at multiple locations in and near the Strait of Hormuz for Iran’s drone attack on M/T Kiku. pic.twitter.com/Z0TLZRqmF6
— U.S. Central Command (@CENTCOM) June 28, 2026
ইরানের দক্ষিণের শহর সিরিকে তীব্র বিস্ফোরণ শোনা গিয়েছে বলে খবর। রেভলিউশনারি বাহিনীর জানিয়েছে, আমেরিকা অন্ধের মতো সিরিকে হামলা করলেও হরমুজে তাদের আধিপত্যই বজায় থাকবে। আমেরিকার হামলার জবাব দিতে দেরি করেনি ইরানও। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস জানিয়েছে তাদের নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছুড়েছে কুয়েত এবং বাহরাইনে। সেখানে আমেরিকার ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের Press TV রেভলিউশনারি গার্ডসকে উদ্ধৃত করে বলে, “যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতার ২ নম্বর ধারার পরিপন্থী। এর ফলে সমস্ত কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ হয়ে যাবে। ”
এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আমেরিকা এবং বাহরাইনের সেনা মিলে ইরানের ছোড়া ন’টি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। বাহরাইনে মোতায়েন আমেরিকার সেনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল সেগুলি। আমেরিকার দাবি, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছিল বলেই তারা হামলা চালিয়েছে। অন্য দিকে, ইরানের দাবি, আমেরিকাকে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। আমেরিকার হামলার জবাবেই বাহরাইন এবং কুয়েতে আঘাত হানা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরান।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে আঘাত হানা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চলতে থাকলে ইরানের অস্তিত্ব মুছে দেবেন বলে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যেখানে যেখানে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে, সব নরককুণ্ডে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে তারা। নতুন করে হামলায় এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। তবে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
