)
Mahrang Baloch Lioness of Balochistan: বালোচিন্তানের অধিকার আন্দোলনের প্রধান মুখ ডা মাহরাং বালোচ। পেশায় একজন চিকিৎসক মাহরাং, গুম খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে বরাবরই সক্রিয়
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বালোচিস্তান উত্তাল করা বিক্ষোভ জড়িত থাকার অভিযোগে বিশিষ্ট মানবাধিকা কর্মী ডাঃ মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দিল বলোচিস্তানের একটি আদালত। কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের ওই রায়ে উত্তাল গোটা প্রদেশ। চলেছে দফায় দফায় সংঘর্ষ, শাটডাউন।
বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটির নেতৃত্ হওয়া বিক্ষোভে মাহরাংকে অশান্তির জন্য দায়ী করেছে আদালত। ওই ঘটনায় ফ্রন্টিয়ার কোরের এক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওই বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
কোয়টার সন্ত্রাস বিরোধী রায় মানতে নারাজ বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি। বালোচের প্রতি ঘৃণার প্রতিফলন বলে দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবি, মামলার নথিপত্রে অসঙ্গতি রয়েছে। তারা আইনি পথ এবং গণআন্দোলন দুই ভাবেই আদালতের রায়কে রায়কে চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়েছে।
ওই রায় ঘোষণার পরই বালুচিস্তানের বেশ কয়েকটি অংশে প্রতিবাদী বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ শুরু হয়। পাশাপাশি গোটা প্রদেশব্যাপী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ডাক দেন। দোকানদার, পরিবহন কর্মী, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে এই ধর্মঘট সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইয়াকজেহতি কমিটি। বহু এলাকায় বিক্ষোভের আশঙ্কায় বাজার বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি প্রদেশের বেশ কিছু অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বালোচ ইউনিটি কমিটিও ওই রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা করেছে।
কে এই ডা মাহরাং বালোচ
বালোচিন্তানের অধিকার আন্দোলনের প্রধান মুখ ডা মাহরাং বালোচ। পেশায় একজন চিকিৎসক মাহরাং, গুম খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে বরাবরই সক্রিয়। নিখোঁজ ব্যক্তি এবং বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনাগুলো নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে তিনি বছরের পর বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
২০০৯ সালে, যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর, তখন তাঁর বাবাকে অপহরণ করা হয় এবং পরে হত্যা করা হয়। এর কয়েক বছর পর, ২০১৬ সালে তাঁর ভাই নাসির বালোচকেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাহরাং-এর নেতৃত্বে দীর্ঘস্থায়ী গণবিক্ষোভের পর তাঁর ভাইকে মুক্তি দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এর ফলেই তিনি বিভিন্ন অধিকার আন্দোলনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেন এবং বছরের পর বছর ধরে তিনি প্রদেশের একাধিক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর এই কাজ পাকিস্তানের বাইরেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যার ফলে দ্বন্দ্বপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে বলপ্রয়োগপূর্বক নিখোঁজ এবং নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়গুলো নিয়ে হওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও তাঁর নাম উঠে আসে।
উল্লেখ্য, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর-এর মতো প্রকল্পগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, এই প্রদেশটি কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনগুলোর মধ্যে এক অশান্ত ও জটিল সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠনগুলো সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে।
(Feed Source: zeenews.com)
