Honeymoon Murder Case: কেতন হত্যাকাণ্ডের মাঝেই ফের চর্চায় রাজা রঘুবংশী খুনের মামলা! সোনমের জামিন নিয়ে কী নির্দেশ দিল আদালত?

Honeymoon Murder Case: কেতন হত্যাকাণ্ডের মাঝেই ফের চর্চায় রাজা রঘুবংশী খুনের মামলা! সোনমের জামিন নিয়ে কী নির্দেশ দিল আদালত?

 

বিচারপতি ডব্লিউ. ডিয়েংদোহের একক বেঞ্চ রাজ্য সরকারের করা আপিল খারিজ করে দেয়। ১০ জুন টানা ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে শুনানি শেষে আদালত রায় সংরক্ষিত রেখেছিল। বিস্তারিত রায় এখনও প্রকাশিত হয়নি।

আদালতের পর্যবেক্ষণএর আগে শিলং আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল, তদন্তকারী সংস্থা সোনমের গ্রেফতারের প্রকৃত কারণ যথাযথভাবে জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতের মতে, গ্রেফতারি মেমো, গ্রেফতারের কারণ সংক্রান্ত চেকলিস্ট, পরিদর্শন মেমো এবং কেস ডায়েরির নির্যাস-সহ সমস্ত নথিতে ভুলবশত ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(১) ধারার পরিবর্তে ৪০৩(১) ধারা উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ ১০৩(১) ধারাই খুনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

 

আদালত জানায়, একই ভুল বারবার একাধিক সরকারি নথিতে হওয়ায় সেটিকে নিছক টাইপো বা ক্লারিক্যাল ত্রুটি বলা যায় না। এছাড়া, সোনমকে যে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তা কোনও নথিতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। এমনকি অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্যও গ্রেফতারের সময় তাঁকে জানানো হয়নি।

টাইপের ভুলএই জামিনের বিরোধিতা করে মেঘালয় সরকার হাইকোর্টে দাবি করে, এটি শুধুই একটি টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুল এবং এতে অভিযুক্তের কোনও ক্ষতি হয়নি। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল অমিত কুমার আদালতে জানান, রিমান্ডের নির্দেশ, চার্জশিট এবং পরবর্তী আদালত প্রক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট যে সোনম খুনের অভিযোগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন।

রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়েরও উল্লেখ করে জানায়, এমন প্রক্রিয়াগত ত্রুটি, যা অভিযুক্তের কোনও বাস্তব ক্ষতি করে না, তা সংশোধনযোগ্য এবং শুধুমাত্র সেই কারণে জামিন দেওয়া উচিত নয়।

শুনানির সময় বিচারপতি ডিয়েংদোহ প্রশ্ন তোলেন, একই ভুল কীভাবে একাধিক সরকারি নথিতে বারবার রয়ে গেল। আদালত আরও মন্তব্য করে, গ্রেফতারের নথির কিছু অংশ যেন একটি নির্দিষ্ট টেমপ্লেট থেকে হুবহু কপি করা হয়েছে। সেখানে সোনমকে ‘সশস্ত্র বাহিনী থেকে পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা এই মামলার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগত।

রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, সোনম জামিনে মুক্ত থাকলে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে হাইকোর্ট জানায়, জামিনের শর্ত যথেষ্ট কঠোর এবং সেগুলি লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মে মাসে। বিয়ের পর হানিমুনে মেঘালয়ে গিয়েছিলেন নবদম্পতি রাজা ও সোনম রঘুবংশী। নংরিয়াটের একটি হোমস্টে থেকে চেক-আউট করার পর থেকেই তাঁরা নিখোঁজ হয়ে যান। পরে সোহরারিম এলাকার কাছে তাঁদের ভাড়া করা স্কুটারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। ২ জুন ওয়েইসাওডং জলপ্রপাতের কাছে একটি গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজা রঘুবংশীর দেহ।

অন্যদিকে, ৮ জুন পর্যন্ত নিখোঁজ থাকার পর উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর কাছে রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে সোনমকে খুঁজে পায় পুলিশ। এরপর মেঘালয় পুলিশ সোনম এবং তাঁর কথিত প্রেমিক রাজ কুশওয়াহাকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে।

ইতিমধ্যেই ৭০০-রও বেশি পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। সেখানে দাবি করা হয়েছে, রাজা রঘুবংশীকে খুনের পরিকল্পনা আগে থেকেই করেছিলেন সোনম রঘুবংশী ও রাজ কুশওয়াহা। বর্তমানে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।

(Feed Source: news18.com)