)
India-Bound Ships ‘Go Dark’:হরমুজ প্রণালীতে নজিরবিহীন ‘ডার্ক ট্রানজিট’! ইরানের নজরদারি এড়াতে ওমান রুটের দিকে ঝুঁকছে পণ্যবাহী জাহাজ। খনিজ তেল ও বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ইরানের হামলার আশঙ্কায় ভারতমুখী জাহাজগুলো এখন নিজেদের লুকিয়ে বা ‘অদৃশ্য’ করে এই বিপজ্জনক জলপথ পার হতে বাধ্য হচ্ছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহে পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পার হওয়ার সময় এক নজিরবিহীন কৌশল নিচ্ছে ভারতমুখী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো। ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে এই রুটে চলাচলকারী সিংহভাগ জাহাজই তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দিচ্ছে। সামুদ্রিক পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে “গোয়িং ডার্ক” অর্থাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে ভারতের দিকে আসা প্রায় ৬২% তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং পণ্যবাহী জাহাজ এই সংকীর্ণ জলপথ পার হওয়ার সময় নিজেদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখছে।
সাধারণত আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সব বাণিজ্যিক জাহাজই ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে জাহাজের নাম, বর্তমান অবস্থান এবং গন্তব্য জানা যায়। কিন্তু যুদ্ধ বা চরম ঝুঁকির পরিস্থিতিতে শত্রুভাবাপন্ন দেশের নজরদারি এড়াতে জাহাজের ক্যাপ্টেনরা সাময়িকভাবে এই সিস্টেম বন্ধ করে দেন, যাতে দূর থেকে কেউ তাদের ট্র্যাক বা নিশানা করতে না পারে। আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর পতাকা লাগানো জাহাজগুলোই ইরানের প্রধান টার্গেট। তাই ঝুঁকি কমাতে তারা এই কৌশল নিচ্ছে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ২৫ জুনের মধ্যে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ৭৩টি জাহাজের মধ্যে ৪৫টি জাহাজই নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান গোপন রেখে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতের নিজস্ব পতাকাবাহী মাত্র ৪টি জাহাজ ওই পথ দিয়ে এসেছে, যার মধ্যে ২টি জাহাজ পুরোপুরি ডার্ক ট্রানজিট করেছে। পানামা, লাইবেরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের মতো দেশের পতাকা লাগানো অন্তত ৬৯টি ভারতমুখী জাহাজও এই প্রণালীতে এসে তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছে।
ওমান রুটের দিকে ঝুঁকছে জাহাজগুলো, বাড়ছে বিভ্রান্তি
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইরান প্রথমে জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েও পরে মাঝদরিয়ায় তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। যেমন, গত এপ্রিল মাসে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ ‘সানমার হেরাল্ড’-কে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস সবুজ সংকেত দেওয়ার পরেও লারাক দ্বীপের কাছে সেটির ওপর হামলা চালানো হয়। আবার মে মাসে ওমানের জলসীমার কাছাকাছি একটি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ রহস্যজনকভাবে ডুবে যায়, যা ইরানের হামলা বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে।
এই কারণে জাহাজগুলো এখন ইরান-নিয়ন্ত্রিত জলপথ এড়িয়ে ওমান উপকূলের রুটটি বেশি ব্যবহার করছে। এই রুটটিকে আমেরিকা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করে। তবে পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়ায়, ওমান রুট দিয়ে যাওয়ার সময়ও জাহাজগুলো ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করেই যাতায়াত করছে।
(Feed Source: zeenews.com)
