
Hero Splendor Plus Flex Fuel: ভারতের সাধারণ মানুষের অত্যন্ত জনপ্রিয় Splendor বাইক এবার এসেছে ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির সঙ্গে। এই বাইকে কী কী পরিবর্তন করা হয়েছে এবং কত টাকায় এটি বাড়িতে আনতে পারবেন, চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক
Hero MotoCorp সম্প্রতি ভারতের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল মোটরসাইকেল লঞ্চ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে Splendor Plus Flex Fuel এবং HF Deluxe Flex Fuel। পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে যখন সরকার E20 থেকে E85 পর্যন্ত ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহারকে উৎসাহ দিচ্ছে। এই জ্বালানি সাধারণ পেট্রলের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত সস্তা।
Splendor Plus Flex Fuel-এর দিল্লিতে এক্স-শোরুম দাম ৮২,৮১০ টাকা। এটি স্ট্যান্ডার্ড মডেলের তুলনায় প্রায় ৫,০০০ টাকা বেশি। তবে বর্তমানে বিশেষ অফারের অধীনে সংস্থা এই বাইকটি ৭৮,৭১০ টাকায় বিক্রি করছে। এই বাইক E20 থেকে E85 পর্যন্ত যে কোনও ইথানল-ব্লেন্ডেড জ্বালানিতে চলতে পারে। ফলে জ্বালানির খরচ কমবে এবং দূষণও কমাতে সাহায্য করবে।
Hero এই বাইকের ইঞ্জিন ও ফুয়েল সিস্টেমে ৩৬টি পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ফুয়েল পাম্প, সেকেন্ডারি এয়ার ফিল্টার এবং রিক্যালিব্রেটেড ECU। এই মডেলটি জুলাই ২০২৬ থেকে দিল্লি-এনসিআর ও মহারাষ্ট্রে পাওয়া যাবে। এরপর ধাপে ধাপে সারা দেশে বিক্রি শুরু হবে। সংস্থার দাবি, Splendor Plus Flex Fuel তার নির্ভরযোগ্যতা, কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির জন্য সাধারণ মানুষের পছন্দের বাইক হয়ে উঠতে পারে। চলুন, এবার বাইকটির ডিজাইন এবং ইঞ্জিন-পারফরম্যান্স সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ডিজাইন ও ফিচার্স: Hero Splendor Plus Flex Fuel-এর ডিজাইন অনেকটাই স্ট্যান্ডার্ড Splendor Plus-এর মতোই। এটি ক্লাসিক এবং ব্যবহারিক ডিজাইনের সঙ্গে এসেছে। বাইকটির দৈর্ঘ্য ২০০০ মিমি, প্রস্থ ৭২০ মিমি এবং উচ্চতা ১০৫২ মিমি। হুইলবেস ১২৩৬ মিমি এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫ মিমি, ফলে খারাপ রাস্তাতেও ভাল পারফরম্যান্স দিতে পারে। এতে রয়েছে অ্যালয় হুইল, ৮০/১০০-১৮ টিউবলেস টায়ার এবং নতুন সেমি-ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। রঙের বিকল্প সীমিত হলেও Splendor-এর পরিচিত ডিজাইন বজায় রাখা হয়েছে। সিটের উচ্চতা ৭৮৫ মিমি, যা অধিকাংশ চালকের জন্য আরামদায়ক। সব মিলিয়ে বাইকটির ডিজাইন সহজ-সরল হলেও যথেষ্ট মজবুত।
এই বাইকে i3S (Idle Stop-Start) প্রযুক্তি রয়েছে, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে সাহায্য করে। এছাড়া সাইড-স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফ, কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেম (CBS)-সহ সামনে ও পিছনে ড্রাম ব্রেক এবং LED পজিশন ল্যাম্প দেওয়া হয়েছে। Flex Fuel সংস্করণে আপডেটেড ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার রয়েছে। ফুয়েল ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতা ৯.৮ লিটার। নিরাপত্তা ও ফিচার্সের দিক থেকে এটি একটি নির্ভরযোগ্য বেসিক কমিউটার বাইক। তবে এতে কোনও উন্নত কানেক্টিভিটি ফিচার নেই।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স: এই বাইকে রয়েছে ৯৭.২ সিসি এয়ার-কুলড, ৪-স্ট্রোক, সিঙ্গল-সিলিন্ডার OHC ইঞ্জিন। E85 জ্বালানিতে এটি ৮.৫ PS শক্তি (প্রায় ৮.৪৪ bhp) @ ৮,০০০ rpm এবং ৮.৩ Nm টর্ক @ ৬,০০০ rpm উৎপন্ন করে, যা স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণের তুলনায় সামান্য বেশি। বাইকে রয়েছে ৪-স্পিড গিয়ারবক্স এবং চেন ড্রাইভ। এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৮৭ কিমি/ঘণ্টা। সংস্থার দাবি, E20 জ্বালানিতে সর্বোচ্চ ৭০ কিমি/লিটার পর্যন্ত মাইলেজ মিলতে পারে। আর বাস্তব ব্যবহারে প্রায় ৬২ কিমি/লিটার মাইলেজ পাওয়া সম্ভব। বাইকটির ওজন ১১৩ কেজি, ফলে এটি চালানো ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।
(Feed Source: news18.com)
