)
Calcutta High Court on IVF treatment: মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবেদনকারী ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ২০১৪ সালে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা নিঃসন্তান ছিলেন। সবরকম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তাঁরা এআরটি (ART) ব্যাঙ্ক থেকে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সংগ্রহ করে ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নিঃসন্তান দম্পতিদের চিকিৎসায় ঐতিহাসিক ও মানবিক রায় কলকাতা হাইকোর্টের। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি বা এআরটি (ART) আইন, ২০২১ অনুযায়ী কোনও নারী যদি মা হওয়ার জন্য শারীরিকভাবে উপযুক্ত হন, তাহলে শুধু স্বামীর বয়স বেশি হওয়ার কারণে তাঁকে আইভিএফ (IVF) বা টেস্টটিউব বেবির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
উত্তরাধিকার বা সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে একজন পুরুষের জৈবিক বা শারীরিক ভূমিকার চেয়েও একজন নারীর শারীরিক সক্ষমতা এবং তাঁর মাতৃত্বের অধিকার যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। গত ২৪ জুনের এই রায়ে বিচারপতি বলেন, ‘সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে একজন নারীর পাশে থেকে মানসিক সমর্থন জোগানো ছাড়া এই পদ্ধতিতে পুরুষের আর কোনও বিশেষ ভূমিকা থাকে না। এখানে নারী নিজেই হলেন গর্ভধারণকারী (Gestational Carrier)’
কেন আদালতের দ্বারস্থ হতে হল দম্পতিকে?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবেদনকারী ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ২০১৪ সালে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা নিঃসন্তান ছিলেন। সবরকম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তাঁরা এআরটি (ART) ব্যাঙ্ক থেকে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সংগ্রহ করে ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
দম্পতির আইনজীবী স্বপ্নদ্বীপ রায় আদালতে জানান, দম্পতি চিকিৎসাগতভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট থাকা সত্ত্বেও একটি হাসপাতাল তাঁদের আইভিএফ চিকিৎসা করতে অস্বীকার করে। কারণ হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এআরটি আইন, ২০২১-এর বয়সসীমার নিয়মটি তুলে ধরে। আইন অনুযায়ী, আইভিএফ প্রযুক্তির সুবিধা নিতে গেলে পুরুষের সর্বোচ্চ বয়স ৫৫ বছর এবং নারীর ক্ষেত্রে ৫০ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই দম্পতির ক্ষেত্রে স্বামীর বর্তমান বয়স ৫৭ বছর হয়ে যাওয়ায় আইনি মারপ্যাঁচে আটকে যায় তাঁদের মা-বাবা হওয়ার স্বপ্ন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও মানবিক রায়
হাসপাতালের এই আপত্তির পরই দম্পতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানির পর বিচারপতি কৃষ্ণ রাও হাসপাতালের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেন। দম্পতির পেশ করা মেডিকেল রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতি বলেন, রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ওই নারী বর্তমানে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তাঁর জরায়ু ভ্রূণ (Embryo) ধারণ করার জন্য উপযুক্ত। অর্থাৎ, ওই নারী বয়স এবং স্বাস্থ্য– উভয় দিক থেকেই এআরটি (ART) প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
আদালত সাফ জানায়, আইভিএফ বা এই জাতীয় আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যেখানে বাইরের স্পার্ম ও ওভাম ব্যাংক ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানে চিকিৎসায় স্বামীর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে যাওয়াটা স্ত্রীর মাতৃত্বের অধিকারের পথে বাধা হতে পারে না।
আইনি জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় আগামী দিনে বহু নিঃসন্তান দম্পতির মুখে হাসি ফোটাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই দম্পতির আইভিএফ চিকিৎসা দ্রুত শুরু করারও নির্দেশ দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
