)
২০২৬ সালের আগস্ট থেকে মুম্বই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর মতো শহরে শুরু হবে ক্লাস। দ্বাদশ শ্রেণীতে ৭৫% নম্বর থাকলেই আবেদন করা যাবে, এমনকি ইংরেজিতে ভালো নম্বর থাকলে আইইএলটিএস পরীক্ষা থেকেও ছাড় মিলবে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিদেশে পড়াশোনা করার স্বপ্ন থাকলেও আকাশছোঁয়া খরচ বা ঘর ছাড়ার অনিচ্ছার কারণে অনেকেই পিছিয়ে আসেন। তাঁদের জন্য এবার মস্ত বড় সুখবর। লন্ডন, শিকাগো বা মেলবোর্নের মতো শহরে না গিয়েই এবার মুম্বই, দিল্লি বা বেঙ্গালুরুর মতো দেশের প্রথম সারির শহরে বসেই মিলবে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি। ভারতের বুকে নিজেদের ক্যাম্পাস খুলতে চলেছে বিশ্বের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই এই ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্ট মাস থেকেই এই ক্যাম্পাসগুলিতে প্রথম ব্যাচের পঠনপাঠন শুরু হতে চলেছে। প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিটি ক্যাম্পাসে ২০০ থেকে ২৫০ জন পড়ুয়াকে ভর্তি নেওয়া হবে, যা আগামী ৫ বছরে বাড়িয়ে বার্ষিক ১,০০০ থেকে ১,২০০ করা হবে। জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষেই ইতিমধ্যেই ১০,০০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
কোন ১৫টি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভারতে আসছে?
ব্রিটেন থেকে ১. ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটন, ২. কুইনস ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট (গিফট সিটি, গুজরাত), ৩. ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল, ৪. ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক, ৫. ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল, ৬. ইউনিভার্সিটি অব এবারডিন, ৭. কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি৮. ইউনিভার্সিটি অব সারে, ৯. ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটি। অস্ট্রেলিয়া থেকে ১০. ডিকিন ইউনিভার্সিটি, ১১. ইউনিভার্সিটি অব উলংগং, ১২. ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি, ১৩. ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, ১৪. লা ট্রোব ইউনিভার্সিটি। আমেরিকা থেকে আসছে ১৫. ইলিনয় ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ইলিনয় টেক)।
ভর্তির যোগ্যতা ও IELTS থেকে ছাড়
বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিকে ন্যূনতম ৭৫% নম্বর থাকা প্রয়োজন। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সের জন্য স্নাতকে কোর্সের ভিত্তিতে ৫৫% থেকে ৭০% নম্বর থাকতে হবে। যদি কোনও পড়ুয়া দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৭০% থেকে ৮৫% নম্বর পেয়ে থাকেন, তবে তাঁদের ক্ষেত্রে আলাদা করে আইইএলটিএস স্কোর জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
সিলেবাস, পরীক্ষা ও বিদেশে যাওয়ার সুযোগ
এই ক্যাম্পাসগুলির পড়াশোনার মান, সিলেবাস, পরীক্ষা এবং গ্রেডিং সিস্টেম হুবহু সেই দেশের ক্যাম্পাসের মতোই হবে। শুরুতে মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কম্পিউটার সায়েন্স এবং স্টেম বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে। পড়ুয়ারা পড়াশোনার মাঝেই ১ বা ২ সেমিস্টার বিদেশে গিয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। যেমন, ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক একটি ‘২+১’ মডেল আনছে— যেখানে ২ বছর মুম্বইতে এবং শেষ ১ বছর যুক্তরাজ্যে গিয়ে পড়া যাবে। ভারতের ক্যাম্পাসে বসেই পড়ুয়ারা বিদেশের মূল ক্যাম্পাসের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের পড়ুয়ারা ক্লাউড সিস্টেমের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের এআই সুপারকম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
খরচ কেমন? মিলবে ১,০০০ কোটির স্কলারশিপ!
আইআইটি বা আইআইএম-এর মতো দেশের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে আসন সংখ্যা সীমিত এবং প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। সেই তুলনায় এই ক্যাম্পাসগুলি বিশ্বমানের পরিকাঠামো দেবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বিদেশে গিয়ে পড়তে যে খরচ হয়, এখানে তার চেয়ে ৩০% থেকে ৪০% কম খরচে একই আন্তর্জাতিক ডিগ্রি পাওয়া যাবে। এছাড়া, মেধা ও আর্থিক প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৫ বছরের জন্য মোট ১,০০০ কোটি টাকার স্কলারশিপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। যোগ্য পড়ুয়ারা ১০% থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ১০০% পর্যন্ত ফি মুকুবের সুযোগ পেতে পারেন। ইউনিভার্সিটি অব এবারডিন এবং ব্রিস্টল প্রতি বছর আলাদা স্কলারশিপের ঘোষণাও করেছে। এখানে পড়ানোর জন্য স্থায়ী ভারতীয় শিক্ষকের পাশাপাশি বিদেশ থেকে ভিজিটিং প্রফেসরেরাও আসবেন।
দেশীয় অর্থনীতিতে বিরাট লাভ
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতীয় পড়ুয়াদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা হু হু করে বাড়ছে। ২০২০ সালে যেখানে ৬.৮ লাখ পড়ুয়া বিদেশে গিয়েছিলেন, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখে। এক যৌথ রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের এই বিদেশি ক্যাম্পাসগুলিতে প্রায় ৫.৬ লাখ পড়ুয়া পড়াশোনা করবেন। এর ফলে দেশের প্রায় ১১৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আটকে রাখা সম্ভব হবে, যা অন্যথায় বিদেশের পড়াশোনায় খরচ হয়ে যেত।
(Feed Source: zeenews.com)
