)
Afghanistan Taliban drone strikes: আফগানিস্তানে জোড়া হামলার বদলা! পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিতে পালটা হামলা চালাল তালিবান সরকার। যদিও পাক সরকারের দাবি, তারা মাঝআকাশেই সেই ড্রোন গুড়িয়ে দিয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তান-আফগানিস্তানের দ্বন্দ্বে জ্বলছে গোটা দেশ। পাক সেনার জোড়া বোমা হামলার বদলা নিল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। বুধবার বেলুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় সক্রিয় IS জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়। কাবুলভিত্তিক এক সংবাদমাধ্যম এই হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে। তারা জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই দুই প্রদেশে সক্রিয় আইএস জঙ্গি ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়।
আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানোর জন্য আইএস এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করত। আফগান সরকারের দাবি, সেই জঙ্গি আস্তানাগুলো ধ্বংস করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান এই হামলার কথা স্বীকার করলেও অন্য দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে ওড়ানো চারটি সাধারণ মানের ড্রোনকে তারা সীমান্তেই গুলি করে নামিয়েছে।
বেলুচিস্তানের সারানান এলাকার একটি স্কুল লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, এই স্কুলটিকে আইএস এবং অন্যান্য জঙ্গি দলগুলো নিজেদের আস্তানা বানিয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তানের ভেতরে বেশ কয়েকটি বড় হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএসের আঞ্চলিক শাখা ‘আইএস-কে’। মূলত তাদের দমন করতেই আফগান সীমান্ত থেকে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়।
এদিকে, পাকিস্তানের সেনা জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) একটি বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা চারটি ড্রোনকে পাকিস্তানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চটজলদি চিনে ফেলে। পাকিস্তানি বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক থাকায় অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে ড্রোনগুলোকে মাঝআকাশেই ধ্বংস করে দেয়। ফলে শত্রুদের বড় ধরনের হামলার চেষ্টা সফলভাবে রুখে দেওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
এই বিবৃতিতে পাকিস্তান বর্তমান আফগান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। ২০০১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর ২০২১ সালে আবার কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে পর্যন্ত তালিবানকে পাকিস্তানই আশ্রয় দিয়েছিল, সে কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তানের দাবি, তালিবান নিজেদের দেশের ‘নিপীড়িত’ জনগণকে আসল সমস্যা থেকে দূরে রাখতে এই ধরনের কাজ করছে। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আফগান জনগণের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই হামলার মাত্র কয়েকদিন আগেই আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি ছিল, ওই অভিযানে অন্তত ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে তালিবানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের ওই হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিরপরাধ সাধারণ আফগান নাগরিক মারা গিয়েছেন।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তাদের দেশের ভেতর হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালিবান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের মতে, এটি পাকিস্তানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
পাকিস্তানের এই বিমান হামলার জবাবে গত সোমবার কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানি কূটনীতিককে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানায় আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে আফগান সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তারা জানায়, পাকিস্তানের কূটনীতিককে ডেকে আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, সীমান্ত জুড়ে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে এখন তীব্র উত্তেজনা চলছে।
(Feed Source: zeenews.com)
