)
Zaynich India First Homegrown Antibiotic: জাইনিক কী ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক? কীভাবে কাজ করবে? ভারতের জাইনিক আবিষ্কার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কীভাবে এল সাফল্য?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাসে এক গৌরবজনক অধ্যায়। চরক-সুশ্রুতের ভারতের মুকুটে জুড়ল আরও একটি পালক। ভারতের প্রথম ‘দেশীয়’ অ্যান্টিবায়োটিক জাইনিক পেল FDA-র অনুমোদন। ভারতের মুম্বই-ভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ‘ওয়াকহার্ট’ সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করেছে এই জাইনিক অ্যান্টিবায়োটিকটি।
আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জাইনিককে অনুমোদন দিয়েছে। এটিই প্রথম কোনও ‘নিউ কেমিক্যাল এনটিটি’বা সম্পূর্ণ নতুন এক রাসায়নিক উপাদান। যা সম্পূর্রূপে ভারতে তৈরি হয়েছে। তারপর ক্লিনিক্যালি পরীক্ষার পর এফডিএ-র স্বীকৃতি পেল। এই সাফল্য ভারতকে বিশ্ব দরবারে মৌলিক ওষুধ আবিষ্কারক দেশ হিসেবে তুলে ধরল। যা ভবিষ্যতে ভারতের চিকিৎসা গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
জাইনিক কী ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক?
জাইনিক হাইডোজের ইনজেকশনযোগ্য একটি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ। যা মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে হওয়া মারাত্মক আকারের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, বিশেষ করে জটিল মূত্রনালীর সংক্রমণ ও কিডনির সংক্রমণ নিরাময়ে ব্যবহার করা হবে। সেফিপাইম (সেফালোস্পোরিন) ও জিডিব্যাকটাম, এই দুই উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি জাইনিক। জিডিব্যাকটাম হল ওয়াকহার্টের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা সম্পূর্ণ একটি নতুন মলিকিউল, যা কিনা ‘বিটা-ল্যাকটাম এনহ্যান্সার’ হিসেবে কাজ করবে।
কীভাবে কাজ করবে জাইনিক?
সেফিপাইম, যা সেফালোস্পোরিন গোত্রের অ্যান্টিবায়োটিক, সরাসরি ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরক্ষামূলক কোষের প্রাচীর ধ্বংস করবে। অন্যদিকে, ব্যাকটেরিয়া নিঃসৃত এনজাইম যাতে সেফিপাইমকে নষ্ট করতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে জিডিব্যাকটাম। এই জিডিব্যাকটাম সেফিপাইমের কার্যক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই দ্বিমুখী আক্রমণের ফলে ভয়ংকর ব্যাকটিরিয়াগুলি নিমেষে ধ্বংস হয়ে যায়।
কেন জাইনিক আবিষ্কার এত গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হল ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা। বছরের পর বছর ধরে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকও এখন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত চার-পাঁচ দশকে মারাত্মক ‘গ্রাম-নেগেটিভ’ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো নতুন কোনও ওষুধ বিশ্ব বাজারে আসেনি। জাইনিক এই শূন্যস্থানটি পূরণ করেছে। জাইনিক এখন চিকিৎসকদের কাছে ই.কোলাই, Klebsiella pneumoniae এবং Pseudomonas aeruginosa-র বিরুদ্ধে এক অব্যর্থ ওষুধ হতে চলেছে।
জাইনিকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল
আমেরিকা, ইউরোপ, ভারত, চিন ও লাতিন আমেরিকার ৬৪টি কেন্দ্রে ৫৩০ জন রোগীর ওপর জাইনিকের ফেজ থ্রি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হয়। যার ফলাফল তাক লাগানো। যেখানে বাজারে পরিচিত গোল্ড-স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্টিবায়োটিক ‘মেরোপেনেম’ ব্য়বহারে জটিল ইউটিআই চিকিৎসায় নিরাময় হার ৬৮.৪ শতাংশ, সেখানে ভারতের তৈরি জাইনিকের সাফল্যের হার ৮৯ শতাংশ।
ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন ইতিমধ্যেই এই ওষুধকে বাজারে বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। প্রায় ২০০ জন ভারতীয় বিজ্ঞানীর ১৫ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম ও গবেষণার ফসল এই জাইনিক।
(Feed Source: zeenews.com)
