PM/CM Removal Bill: ৩০ দিন জেলে থাকলেই সরতে হবে মুখ্যমন্ত্রী/প্রধানমন্ত্রীকে! বিল পাশ এবারেই? কী বলছে সংসদের সংখ্য়াগরিষ্ঠতার অঙ্ক?

PM/CM Removal Bill: ৩০ দিন জেলে থাকলেই সরতে হবে মুখ্যমন্ত্রী/প্রধানমন্ত্রীকে! বিল পাশ এবারেই? কী বলছে সংসদের সংখ্য়াগরিষ্ঠতার অঙ্ক?

PM/CM Removal Bill: ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রেও এই দলগুলি সরকারকে সমর্থন করবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ, এই বিল পাশ করাতে প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে তাদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এই অধিবেশনেই পাশ সংসদে?

নয়াদিল্লি: যতদূর শোনা যাচ্ছে, আসন্ন বাদল অধিবেশনেই ‘সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল’ পাশ করানোর জন্য অনুমতি চাইতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার৷ ইতিমধ্যেই আসতে চলেছে এই বিল সম্পর্কিত যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)র রিপোর্ট। বিলটি ২০২৫ সালের বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংসদে পেশ করা হয়েছিল। বিরোধী দলগুলির তীব্র আপত্তির জেরে বিলটি বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য জেপিসির কাছে পাঠানো হয়। বাদল অধিবেশনের শুরুতেই কমিটি তাদের রিপোর্ট পেশ করতে পারে বলে সূত্রের খব। এরপর সরকার বিলটি আলোচনা ও অনুমোদনের জন্য সংসদে তুলতে পারে।

কী প্রস্তাব রয়েছে এই বিলে?প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বা কোনও মুখ্যমন্ত্রী যদি দুর্নীতিসহ নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর অপরাধে গ্রেফতার হয়ে টানা ৩০ দিন বা তার বেশি সময় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ থেকে অপসারণের বিধান আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই বিল আইনে পরিণত হলে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচিত নির্বাহী পদগুলির কার্যকালের সাংবিধানিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।

বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজনএটি যেহেতু সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই এটি পাশ করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। পাশাপাশি, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৮-এ নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে বিলটি পাশ করাতে হলে।

গত বছর বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার সময় বিরোধী দলগুলি তীব্র আপত্তি জানিয়ে দাবি করেছিল যে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাব বিস্তারিত সংসদীয় পর্যালোচনার দাবি রাখে। এরপরই সরকার বিলটি জেপিসির কাছে পাঠায়।

সংসদের রাজনৈতিক সমীকরণ কি বদলেছে?গত বাদল অধিবেশনের পর থেকে সংসদের রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে এনডিএ-র অবস্থানকে কিছুটা শক্তিশালী করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনপশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর, তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। পরে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ-কে সমর্থন জানায়।
উদ্ধব শিবিরে ধসলোকসভায়ও উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ছয়জন সাংসদ একনাথ শিণ্ডের শিবসেনায় যোগ দেন। এর ফলে লোকসভায় এনডিএ-র সদস্যসংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৩০-এ পৌঁছেছে। তবে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার তুলনায় এই সংখ্যা এখনও কম।
আম আদমি পার্টির অবক্ষয়রাজ্যসভাতেও এনডিএ-র অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। আম আদমি পার্টি (আপ)-এর সাতজন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় ২৪২ সদস্যের রাজ্যসভায় এনডিএ-র সংখ্যা বেড়ে ১৪১ হয়েছে। এর সঙ্গে ১০ জন মনোনীত ও নির্দল সদস্যের সমর্থন ধরলে জোটের নিশ্চিত সমর্থন ১৫১-এ পৌঁছয়। যদিও এটি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার তুলনায় অনেক বেশি, তবুও সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে এখনও ১১ ভোট কম।
আঞ্চলিক দলগুলির ভূমিকা হতে পারে নির্ণায়ক

এখন নজর থাকবে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের অবস্থানের দিকে। অতীতে বিজু জনতা দল (বিজেডি) এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (ওয়াইএসআরসিপি) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশ করানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করেছে।