
National Press Foundation’s International Reporting Fellowship-এ বক্তব্য রাখছিলেন কৌশিকান। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ ধরনের তত্ত্ব খারিজ করে দেন যাতে বলা হয় যে, পাকিস্তানের সমস্যার মূল কারণ এখানকার ভৌগলিক অবস্থান। পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন তিনি। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জগুলোর মূল কারণ ভৌগোলিক অবস্থানের পরিবর্তে দীর্ঘ কয়েক দশকের দুর্বল শাসনব্যবস্থা। তিনি বলেন, “এটা নিছকই একটা অজুহাত। আসল কথা হল, শুরু থেকেই পাকিস্তানের চরম অব্যবস্থাপনা চলেছে।”
কৌশিকান সামরিক ও অসামরিক—উভয় শ্রেণিরই সমালোচনা করে বলেন যে, দেশের শাসনব্যবস্থা-সংক্রান্ত সঙ্কটের জন্য কোনও একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। তাঁর কথায়, “সামরিক বাহিনী যেমন সমস্যার একটি অংশ, তেমনি তারাই আবার দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে। আপনাদের অসামরিক রাজনীতিবিদরা—দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেকেই—কেবল সময়ের অপচয়।”
কৌশিকান ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে কৌশিকান ১৯৯১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি জঙ্গিদের দ্বারা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনার উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ‘সামন্ততান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করেছিলেন, তা তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন যে, বিমান ছিনতাইকারীরা পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। তিনি তখন আর অফিসে ছিলেন না এবং সিন্ধুতে ছিলেন।
কৌশিকানের কথায়, পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সহায়তায় তিনি খুব ভোরে ভুট্টোর বাসভবনে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বারবার বুঝিয়ে বলেছিলেন যে, ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না দিলে বিমান ছিনতাইকারীরা যাত্রীদের হত্যা করা শুরু করার হুমকি দিয়েছে; তা সত্ত্বেও তাঁর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়।
কৌশিকান স্মৃতিচারণা করে বলেন, “আমি ওই ব্যক্তিকে তিনবার ব্যাখ্যা করি।” তাতে তিনি যে উত্তর পেয়েছিলেন সেকথাও উল্লেখ করেন। ওই ব্যক্তি কৌশিকানকে বলেন, “ম্যাডাম ঘুমাচ্ছেন, ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না।” হঠাৎ ফোনটাও কেটে দেওয়া হয়।
(Feed Source: abplive.com)
